খাবারের পাতে কাঁচা পেঁয়াজ অনেকেরই প্রিয়। তবে এটি শুধু স্বাদের জন্য নয়, শরীরকেও তীব্র গরমের ধকল সামলাতে সাহায্য করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, গরমে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে 'লু' বা হিট এগজশন এবং হিটস্ট্রোকের কিছু উপসর্গের প্রভাব কমতে পারে।
গরমে পাতে থাকুক। ছবি: সংগৃহীত
কেন গরমের সুপারফুড পেঁয়াজ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজে রয়েছে প্রচুর জলীয় উপাদান, প্রাকৃতিক মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফ্ল্যাভোনয়েড। এই উপাদানগুলি শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে যে জল ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে পেঁয়াজ।
হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কীভাবে সাহায্য করে?
অতিরিক্ত গরমে অনেকেরই মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, বমিভাব, শরীর গরম হয়ে যাওয়া বা ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পেঁয়াজে থাকা কোয়েরসেটিন নামের উপাদান শরীরকে ডিহাইড্রেশন থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। পাশাপাশি এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তাপজনিত অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করে।
কমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি! ছবি: সংগৃহীত
হজমের সমস্যাতেও উপকারী
গরমে হজমের গোলমাল, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি খুব সাধারণ সমস্যা। পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে। এতে হজমশক্তিও ভালো থাকে।
কীভাবে খাবেন পেঁয়াজ?
গরমে কাঁচা পেঁয়াজ স্যালাড হিসেবে খাওয়া যেতেই পারে। দইয়ের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। অনেকেই ভিজিয়ে রাখা পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের চাটনিও খেয়ে থাকেন। এতে স্বাদের পাশাপাশি শরীরও কিছুটা ঠান্ডা হয়।
হজমেও উপকারী। ছবি: সংগৃহীত
কারা সাবধানে?
যাঁদের অ্যাসিডিটি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)-এর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। অতিরিক্ত না খেয়ে অল্প পরিমাণে নিয়মিত খাওয়াই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজ উপকারী হলেও হিটস্ট্রোক ঠেকাতে শুধু এর উপর নির্ভর করলে চলবে না। পর্যাপ্ত জলপান, হালকা খাবার এবং রোদ এড়ানোও সমান জরুরি।
