shono
Advertisement
Sam Neill Death

প্রয়াত 'জুরাসিক পার্ক' খ্যাত স্যাম নিল, শরীরে বাসা বাঁধে বিরল রক্তের ক্যানসার, জানুন লক্ষণ ও চিকিৎসা

২০২২ সাল থেকে অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। কী এই রোগ? কেন এটি এত জটিল? আর কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়?
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 03:15 PM Jul 13, 2026Updated: 03:15 PM Jul 13, 2026

জুরাসিক পার্ক, দ্য পিয়ানো-সহ একাধিক কালজয়ী ছবির অভিনেতা স্যাম নিল আর নেই। ৭৮ বছর বয়সে সিডনিতে হঠাৎ মৃত্যু। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর মৃত্যু সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

Advertisement

২০২৩ সালে স্যাম নিল নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমায় আক্রান্ত। ২০২২ সাল থেকে তিনি এই বিরল ও জটিল রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। প্রথমে কেমোথেরাপি, পরে অত্যাধুনিক কার-টি সেল থেরাপির মাধ্যমে তাঁর ক্যানসার রেমিশনে চলে যায়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তাঁর শরীরে ক্যানসারের কোনও সক্রিয় চিহ্ন ছিল না।

স্যাম নিলের অসুস্থতার খবর সামনে আসার পর থেকেই চিকিৎসক মহলেও নতুন করে আলোচনায় আসে এই বিরল ক্যানসার। কারণ, সাধারণ মানুষের কাছে এর নাম যেমন অপরিচিত, তেমনই এর উপসর্গও অনেক সময় সাধারণ অসুখের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়ে যায়।

স্যাম নিল। ছবি: সংগৃহীত

কী এই অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমা?
অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমা বা এআইটিএল হল নন-হজকিন লিম্ফোমার একটি বিরল ও আক্রমণাত্মক ধরন। এটি শরীরের লসিকাতন্ত্রে (লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম) তৈরি হয় এবং টি-সেল নামে পরিচিত শ্বেত রক্তকণিকাকে আক্রান্ত করে। এই কোষগুলো শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ফলে এই ক্যানসার শুধু শরীরের একটি অংশকেই নয়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দেয়।

এই রোগ মূলত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং সব ধরনের নন-হজকিন লিম্ফোমার মধ্যে এর সংখ্যা খুবই কম।

কোন কোন লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমার উপসর্গগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ভাইরাল সংক্রমণ বা অন্য সাধারণ রোগের মতো হওয়ায় শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। তবে নিচের লক্ষণগুলি দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত-

  • ঘাড়, বগল বা কুঁচকিতে লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া
  • দীর্ঘদিন জ্বর থাকা
  • রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
  • অকারণে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
  • সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
  • ত্বকে র‍্যাশ বা চুলকানি
  • বারবার সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া
  • যকৃত বা প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া

কীভাবে রোগ ধরা পড়ে?
এই ক্যানসার নিশ্চিত করতে চিকিৎসকেরা একাধিক পরীক্ষা করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, সিটি স্ক্যান বা পেট-সিটি স্ক্যান, প্রয়োজন হলে বোন ম্যারো পরীক্ষা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লসিকাগ্রন্থির বায়োপসি। পাশাপাশি বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসারের ধরনও নির্ধারণ করা হয়।

স্যাম নিলের চিকিৎসা
রোগ ধরা পড়ার পর প্রথমে কেমোথেরাপি দেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে সেই চিকিৎসা কার্যকারিতা হারায়। এরপর চিকিৎসকেরা কার-টি সেল থেরাপির সিদ্ধান্ত নেন। এই আধুনিক চিকিৎসার ফলে তাঁর ক্যানসার রেমিশনে (ক্যানসারের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কমে যায়) চলে যায় এবং সাম্প্রতিক পরীক্ষাতেও শরীরে ক্যানসারের উপস্থিতি ধরা পড়েনি।

কী এই কার-টি সেল থেরাপি?
কার-টি  সেল (Chimeric Antigen Receptor T-cell) থেরাপি বর্তমানে রক্তের কিছু ক্যানসারের চিকিৎসায় অন্যতম যুগান্তকারী পদ্ধতি। এতে রোগীর শরীর থেকে টি-সেল সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে জিনগতভাবে এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়, যাতে তারা ক্যানসার কোষকে চিনে আক্রমণ করতে পারে। এরপর সেই পরিবর্তিত কোষ আবার রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। শরীরে ফিরে গিয়ে এই কোষগুলো ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। বর্তমানে রক্তের ক্যানসারের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যানসার ও কিছু অটোইমিউন রোগেও এই চিকিৎসার সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।

ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা কী?
রোগের পর্যায়, বয়স এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, স্টেম সেল প্রতিস্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কার-টি সেল থেরাপির মতো আধুনিক চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই একাধিক চিকিৎসা একসঙ্গে প্রয়োগ করা হয়।

এই রোগ কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?
বর্তমানে এই বিরল ক্যানসার প্রতিরোধের কোনও নিশ্চিত উপায় জানা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু অস্বাভাবিকতা এবং নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ঘাড় বা বগলে দীর্ঘদিন গাঁট ফুলে থাকা, অকারণে জ্বর, রাতে ঘাম, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিকে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে, যা চিকিৎসার ফলও অনেকটাই উন্নত করতে পারে।

স্যাম নিলের সংগ্রাম শুধু এক অভিনেতার ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং বিরল রক্তের ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতারও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে আজ এমন অনেক রোগেরও চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে, যা একসময় প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হতো।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement