নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট নেন? চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন তো? গুগল করে কিছু না বুঝেশুনে দুম করে ভিটামিন বা আয়রনের স্ট্রিপ কিনে নিয়ে চলে আসবেন না যেন! সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার অভ্যাস বর্তমানে অনেকটা ‘ডেইলি স্ন্যাকস’-এর মতো হয়ে উঠেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বা রাতে শোওয়ার আগে মুঠো মুঠো বড়ি চিবোচ্ছেন অনেকেই। উদ্দেশ্য— দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি, ত্বকের জেল্লা বাড়ানো বা পেশি তৈরি। কিন্তু ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়াই এই ইচ্ছেমতো সাপ্লিমেন্ট খাওয়া কি আদৌ নিরাপদ? চিকিৎসকরা বলছেন, এই প্রবণতা আসলে নীরবে মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো।
ফাইল ছবি
নিজের ক্ষতি করছেন না তো?
অনেকেই মনে করেন, ভিটামিন বা মিনারেল তো শরীরের জন্য ভালো, বেশি খেলে ক্ষতি কী? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণা ভুল। বিশেষ করে ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন (যেমন ভিটামিন A, D, E এবং K) শরীরে অতিরিক্ত জমা হলে বিষক্রিয়া শুরু হয়। একে ডাক্তারি পরিভাষায় ‘হাইপারভিটামিনোসিস’ বলে। এর ফলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমনকী ভিটামিন ডি-এর আধিক্য রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে কিডনিতে পাথর হওয়া এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লিভার ও কিডনির ওপর চাপ
শরীরের ফিল্টার হল লিভার ও কিডনি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রোটিন পাউডার বা সাপ্লিমেন্ট খেলে এই দুটি অঙ্গের ওপর প্রচণ্ড বাড়তি চাপ পড়ে। বেশি প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট থেকে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এতে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ফাইল ছবি
আগেভাগে সতর্ক হোন
লাইফস্টাইল বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে হজমের সমস্যা, ক্লান্তি বা অনিদ্রা দূর করতে অনেকেই গুগল সার্চ করে ওমেগা-৩ বা প্রোবায়োটিক খেতে শুরু করেন। কিন্তু শরীরে সত্যিই সেই উপাদানের ঘাটতি আছে কি না, তা রক্ত পরীক্ষা ছাড়া বোঝা অসম্ভব। মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক খাবার ও ফলের পুষ্টির কোনও বিকল্প নেই। রাসায়নিক উপায়ে তৈরি এই সাপ্লিমেন্টগুলি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে শরীরের স্বাভাবিক ইমিউন সিস্টেমকে আলগা করে দেয়।
কীভাবে সাবধান হবেন?
সাপ্লিমেন্ট ক্ষতিকর নয়, যদি তা প্রয়োজনমতো নেওয়া হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন ছাড়া স্রেফ বিজ্ঞাপনের চাকচিক্য দেখে বা বন্ধুর পরামর্শে এই ধরনের ট্যাবলেট খাওয়া বন্ধ করুন। মনে রাখবেন, সাময়িক শক্তি পেতে গিয়ে আপনি আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলিকে চিরতরে অকেজো করে দিচ্ছেন না তো? সাবধান হওয়ার সময় এখনই।
