চার বছর ধরে চলতে থাকা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতো দূর বরং উত্তরোত্তর আরও গুরুতর আকার নিয়েছে। রুশ হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেন। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে এবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে 'যুদ্ধের গোলাম' বলে কটাক্ষ করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে পশ্চিম বিশ্বের আকাশ প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও আরও অস্ত্র সরবরাহের আর্জি জানালেন তিনি।
শনিবার মিউনিখে আয়োজিত নিরাপত্তা সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশিয়ার নৃশংসতা তুলে ধরেন তিনি। ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, "এই যুদ্ধ থামাতে আঞ্চলিক ছাড় বা ভুখণ্ড হস্তান্তরের পথে হাঁটলে তা হবে ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির মতো। যা শান্তি আনবে না বরং ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে।" গত ৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে জেলেনস্কি বলেন, "এইযুদ্ধে এখনও পর্যন্ত দুই দেশের ১৮ লক্ষ সেনার মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনকে ধ্বংস করে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে ওরা। লক্ষ লক্ষ মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে।"
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, "উনি (পুতিন) নিজেকে রুশ সম্রাট হিসেবে ভাবতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি যুদ্ধের গোলাম।"
কিয়েভের অভিযোগ, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের সমস্ত পাওয়ার গ্রিডগুলিকে ধ্বংস করেছে। দেশে এমন একটিও পাওয়ার গ্রিড অবশিষ্ট নেই যা রাশিয়ার আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। যার জেরে প্রচণ্ড শীতে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ কষ্ট পেয়েছেন। এই অবস্থায় জেলেনস্কির আবেদন, ইউরোপীয় দেশগুলি যত দ্রুত সম্ভব যেন ইউক্রেনকে অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করে। এরপরই সরাসরি পুতিনকে তোপ দেগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, "উনি (পুতিন) নিজেকে রুশ সম্রাট হিসেবে ভাবতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি যুদ্ধের গোলাম।"
উল্লেখ্য, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে আমেরিকার মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। এই অবস্থায় জেলেনস্কি বলেন, এমন কোনও ফাঁক রাখা উচিত নয় যেখান থেকে তারা আরেকটি যুদ্ধ শুরু করতে পারে। ইউরোপের প্রতি আস্থা রেখে তাঁর দাবি, ইউরোপীয় দেশগুলিকে আলোচনার টেবিলে বসতে দেওয়া হলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু রাশিয়া লাগাতার এর বিরোধিতা করছে। যুদ্ধ থামাতে বিশেষ কোনও কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস না পেয়ে পশ্চিমের মিত্র দেশগুলির কাছে তিনি আবেদন জানান দ্রুত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
