ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে বাড়ছে থাইরয়েড সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, জীবনের কোনও না কোনও সময়ে প্রতি ১০ জন মহিলার মধ্যে অন্তত একজন থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া ছাড়াও দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং কোভিড-পরবর্তী কিছু অভ্যেসে— এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়েছে।
থাইরয়েড কী এবং কেন সমস্যা হয়?
থাইরয়েড হল গলার কাছে থাকা একটি ছোট্ট গ্রন্থি, যা শরীরের বিপাকক্রিয়া, ক্যালরির মাত্রা এবং নানা গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি যদি খুব বেশি বা খুব কম হরমোন তৈরি করে, তখনই থাইরয়েডজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে ক্লান্তি, ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, চুল পড়া বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
হাইপোথাইরয়েডিজম কী?
যখন শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কমে যায়, তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। এর সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—
- অতিরিক্ত ক্লান্তি
- চুল পড়া
- বেশি ঠান্ডা লাগা
- হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যাওয়া
- ওজন বেড়ে যাওয়া
- ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
এই সমস্যার সম্ভাব্য কারণের মধ্যে রয়েছে আরও কিছু। যেমন— অটোইমিউন ডিজিজ, আয়োডিনের ঘাটতি, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অস্ত্রোপচার-পরবর্তী কিছু জটিলতা।
হাইপারথাইরয়েডিজম কী?
হাইপারথাইরয়েডিজমে শরীরে থাইরয়েড হরমোন বেশি উৎপন্ন হয়, ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া দ্রুত হয়ে যায়। এর ফলে দেখা দিতে পারে—
- দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
- উদ্বেগ বা অস্থিরতা
- গরম সহ্য করতে না পারা
- হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
ছবি: সংগৃহীত
মানসিক চাপের ভূমিকা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থাইরয়েড সমস্যাকে বাড়াতে পারে। স্ট্রেসের সময় শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়, যা থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। কাজের চাপ, সংসারের দায়িত্ব, পরিবার দেখাশোনা—সব মিলিয়ে অনেক ভারতীয় মহিলাই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে থাকেন, যা থাইরয়েডের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জীবনযাত্রা বদলই বড় হাতিয়ার
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা, যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে ৩৫ বছরের পর মহিলাদের থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা অত্যন্ত জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত
মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে যোগ
গবেষণায় দেখা গেছে, থাইরয়েডের ভারসাম্য নষ্ট হলে উদ্বেগ বা হতাশার মতো মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এখন সমন্বিত চিকিৎসাপদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছেন, যেখানে শারীরিক ও মানসিক—দু-দিকই সমান গুরুত্ব পায়।
জরুরি সচেতনতা বাড়ানো
বিশেষজ্ঞদের কথায়, ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা হঠাৎ হঠাৎ মেজাজ বদল—অনেকেই সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এগুলো থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসাই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
