গোবিন্দ রায়: এবার নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে খুঁজতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতির রাজাশেখর মান্থার এই নির্দেশ দেন।
নিউ আলিপুরের বাসিন্দা তৃষিত বিশ্বাস। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র তিনি। ২০১৯ সালে একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তিনি। তারপর থেকেই শুরু হয় তাঁর খোঁজ। ঘটনার প্রায় আট মাস পরে নিউ আলিপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয় বলে জানান তৃষিতের পরিবারের পক্ষের আইনজীবীরা। ঘটনার তদন্তে নেমে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল একজনকে। কিন্তু পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে যায় অভিযুক্ত। এরপরই মামলা ‘ক্লোজ’ করে দেয় পুলিশ বলে দাবি আইনজীবীর।
[আরও পড়ুন: সপ্তাহে মাত্র চারদিন কাজ, তিনদিন ছুটি! কর্মীস্বার্থে সিদ্ধান্ত ১০০টি সংস্থার]
কিন্তু ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশা তখনও ছাড়েনি পরিবার। তাঁর খোঁজ যাতে পাওয়া যায়, তার জন্য হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন তৃষিতের বাড়ির সদস্যরা। এরপরই ঘটনায় নয়া মোড় আসে। তৃষিতের বাড়িতে প্রথমে একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলা হয়, ছেলের হদিশ পাওয়া যেতে পারে। এরপর একই বার্তা দিয়ে তাঁর বাড়ির ঠিকানায় এসে পৌঁছায় একটি চিঠিও। কিন্তু তা কোথা থেকে এসেছে, স্পষ্ট হয়নি। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পিছনে বাংলাদেশ যোগ রয়েছে। এমনটা দাবি করেছিল পরিবার। এরপর ইন্টারপোলের সাহায্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সেখান থেকেও মেলেনি কোনও আশার আলো। যেখান থেকে ফোনটি এসেছিল, তার অস্তিত্ব নেই বলেই জানানো হয়।
এরপর দায়ের হয় নতুন মামলা। তৃষিতকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব পায় সিআইডি। এতদিন সিআইডি আধিকারিকরাই তদন্ত চালাচ্ছিলেন। কিন্তু মামলার বাড়তি জটিলতা এড়াতে এবং দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য এবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিচারপতির। হাই কোর্টের নির্দেশে নতুন করে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছে পরিবার। হাই কোর্টের এহেন নির্দেশ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।