শখ করে কেনা হাতব্যাগ! পকেটের কড়কড়ে নোট খরচা করে কেনা। শ্যানেল, হার্মিস বা বারকিনের মতো নামী ব্র্যান্ডের ব্যাগ শুধু আভিজাত্য বাড়ায় না। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ব্যাগগুলির আর্থিক মূল্যও বাড়তে থাকে। তাই বেশি দাম দিয়ে কেনা ব্যাগ বছরের পর বছর ধরে নতুন রাখতে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, রং চটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সব চাইতে বেশি। তাছাড়া দাগছোপ লেগে গেলেও সমস্যা। সঠিক যত্ন না নিলে অল্প দিনেই ব্যাগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই, আকাশছোঁয়া দাম দিয়ে ব্যাগ কিনলেই হল না। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করলে দামি জিনিসের স্থায়িত্ব কমে। লাক্সারি ব্যাগের জৌলুস দীর্ঘস্থায়ী রাখতে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। এই ৫ কাজ করলেই কেল্লাফতে!
প্রতীকী ছবি
১) নতুন ব্যাগ কিনে অনেকেই তা আলমারিতে তুলে রাখেন। তবে, ব্যাগের শেপ ঠিক রাখতে অনেকেই ভিতরে খরের কাগজ ভরে রাখেন। এটি মারাত্মক ভুল। কাগজের কালি ব্যাগের ভেতরের লাইনিংয়ে স্থায়ী দাগ ফেলে দিতে পারে। এর বদলে নরম পুরনো টি-শার্ট, বালিশের কভার বা হালকা সোয়েটার ব্যবহার করুন। এতে ব্যাগের শেপ ঠিক থাকবে এবং জায়গাও সাশ্রয় হবে।
২) রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেতে গিয়ে অনেকেই ব্যাগ মেঝের ওপর রেখে দেন। মেঝের ধুলোবালি বা আর্দ্রতা ব্যাগের চামড়ার পক্ষে ক্ষতিকর। ব্যাগের নিচে মেটাল ফিট না থাকলে সরাসরি কোথাও রাখবেন না। সঙ্গে একটি পোর্টেবল ব্যাগ হ্যাঙ্গার রাখতে পারেন, যা টেবিলের কোণে ঝুলিয়ে রাখা যায়। আবার ভ্রমণের সময় ‘ডাস্ট কভার’ সঙ্গে রাখুন। বিমানবন্দরের সিকিউরিটি চেক বা কনভেয়ার বেল্টের ঘর্ষণ থেকে বাঁচতে ডাস্ট ব্যাগ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
৩) সব ব্যাগ সব ঋতু বা সব পোশাকের জন্য নয়। বিশেষ করে সুয়েড মেটেরিয়ালের ব্যাগের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এই ধরনের ব্যাগ হালকা রঙের পোশাকের সঙ্গে নেওয়া ভালো, কারণ অনেক সময় পোশাক থেকে রঙ ব্যাগে চলে আসে। বর্ষার দিনে দামি চামড়ার ব্যাগ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। ভিজে গেলে চামড়ায় ছত্রাক পড়ার ভয় থাকে। খুব প্রয়োজনে ব্যাগের জন্য আলাদা রেইন কভার ব্যবহার করতে পারেন।
৪) প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস ব্যাগে ভরবেন না। এতে ব্যাগের হাতল আলগা হয়ে যেতে পারে। ব্যাগের ভেতর সরাসরি পেন, মেকআপ বা চাবি রাখবেন না। ছোট ছোট পাউচে এই জিনিসগুলো ভরে তারপর ব্যাগে রাখুন। এতে কালির দাগ বা স্ক্র্যাচ পড়ার ঝুঁকি রইবে না।
প্রতীকী ছবি
৫) পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার জন্যেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ফ্যাব্রিক ব্যাগের জন্য হালকা সাবান জল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে লেদার ব্যাগের ক্ষেত্রে নরম ভিজে কাপড় বা বেবি ওয়াইপস দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। মাঝে মাঝে লেদার কন্ডিশনার বা প্রোটেক্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করলে চামড়া নরম ও উজ্জ্বল থাকে। ব্যাগে বড় কোনও সমস্যা বা জেদি দাগ দেখা দিলে নিজে কারিগরি না করে পেশাদার ব্যাগ ক্লিনিং সার্ভিসের সাহায্য নিন। মনে রাখবেন, সঠিক যত্নই আপনার শখের বিনিয়োগকে বছরের পর বছর নতুনের মতো রাখতে পারে।
