মধ্যবিত্তের হেঁশেলে ফের অশনিসংকেত। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম। কলকাতায় ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯ টাকা ছাড়িয়েছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১৪৪ টাকার বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। এই অগ্নিমূল্যের বাজারে পকেটের চাপ কমাতে এখন বিকল্প রান্নার দিকেই ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। গ্যাস সিলিন্ডার ছাড়াই চটজলদি রান্না করতে চান? এলপিজি নির্ভরতা কমাতে ব্যবহার করুন এই ৫ ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। এই যুদ্ধের বাজারে কিছুটা স্বস্তি পেতে সেরা বিকল্প বেছে নিন।
১. ইনডাকশন কুকটপ
শহরাঞ্চলে রান্নার গ্যাসের সেরা বিকল্প এখন ইনডাকশন। এটি বিদ্যুতের চৌম্বকীয় শক্তিতে কাজ করে। ফলে তাপ অপচয় কম হয় এবং রান্না হয় দ্রুত। ২ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে ভালো মানের ইনডাকশন পাওয়া যায়। ছোট পরিবার বা ব্যাচেলরদের জন্য এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
২. ইনফ্রারেড কুকটপ
অনেকে ইনডাকশনে বিশেষ পাত্র ব্যবহারের ঝামেলা এড়াতে চান। তাদের জন্য সেরা সমাধান ইনফ্রারেড কুকটপ। এর কাচের প্লেটটি সরাসরি গরম হয়। ফলে অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল বা মাটির—যেকোনও পাত্রেই এতে রান্না করা সম্ভব। বহুমুখী ব্যবহারের জন্য এটি বেশ জনপ্রিয়।
ছবি: সংগৃহীত
৩. ইলেকট্রিক প্রেশার কুকার
অফিসযাত্রীদের জন্য এটি আশীর্বাদ স্বরূপ। এতে ভাত, ডাল থেকে শুরু করে মাংস—সবই এক ক্লিকে রান্না করা যায়। অটো-টাইমার সুবিধা থাকায় খাবার পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম।
ছবি: সংগৃহীত
৪. কনভেকশন মাইক্রোওয়েভ
মাইক্রোওয়েভ মানেই শুধু খাবার গরম করা নয়। কনভেকশন মোড থাকলে এতে বেকিং, গ্রিলিং এমনকী রোজকার তরকারিও রান্না করা সম্ভব। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
৫. এয়ার ফ্রায়ার
স্বাস্থ্য সচেতনদের প্রথম পছন্দ এখন এয়ার ফ্রায়ার। নামমাত্র তেলে ভাজাভুজি থেকে শুরু করে সবজি রোস্ট—সবই হয় নিমেষে। প্রাথমিক ভাবে ভাজাভুজির জন্য ব্যবহার হলেও, নতুন মডেলগুলিতে রস্টিং, বেকিং বা গ্রিলিং সহ বহু সুবিধা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
সম্পূর্ণভাবে গ্যাস বর্জন করা হয়তো এখনই সম্ভব নয়। তবে এই আধুনিক ইলেকট্রনিক গ্যাজেটগুলো ব্যবহার করলে মাসের শেষে সিলিন্ডারের খরচ অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ কমানো সম্ভব। যুদ্ধের বাজারে পকেটে স্বস্তি ফেরাতে স্মার্ট রান্নাঘরই এখন সময়ের দাবি।
