বাঙালির অন্দরমহলে রান্নাঘর কি শুধুই খাবার তৈরির স্থান? না, তা নয়। রান্নাঘর হল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। শাস্ত্র মতে, এই স্থান দেবী অন্নপূর্ণার অধিষ্ঠান ক্ষেত্র। কিন্তু একথা আমরা কজনই বা মাথায় রাখি? অজান্তেই জুতো বা চটি পরে ঢুকে পড়ি হেঁশেলের পবিত্র গণ্ডিতে। বাস্তুবিদরা বলছেন, এই অভ্যাস ডেকে আনছে চরম বিপদ।
ফাইল ছবি
বাস্তুদোষ ও লক্ষ্মী বিয়োগ
বাস্তু শাস্ত্রের নিদান অনুযায়ী, রান্নাঘর হল শুদ্ধতার প্রতীক। চটি-জুতো বাইরের ধুলোবালি এবং নেতিবাচক শক্তির বাহক। অপবিত্র অবস্থায় রান্নাঘরে প্রবেশ করলে দেবী অন্নপূর্ণা ও মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন বলে মনে করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সংসারের সুখ-শান্তিতে। অকারণে কলহ, মানসিক অশান্তি এবং সম্পর্কের তিক্ততা বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, এর ফলে অন্নের ভাণ্ডারে টান পড়ে। আর্থিক অনটন ধীরে ধীরে পরিবারকে গ্রাস করে।
উন্নতির পথে বাধা
বাস্তু তত্ত্ব অনুযায়ী, রান্নাঘর হল ‘অগ্নি’ তত্ত্বের প্রধান আধার। অন্যদিকে, বাইরের জুতো ‘পৃথিবী’ তত্ত্বের ভারী ও নেতিবাচক শক্তির প্রতীক। আগুনের সংস্পর্শে এই ভারী উর্জার উপস্থিতি তাত্ত্বিক ভারসাম্য নষ্ট করে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর প্রভাবে গৃহকর্তার পেশাগত জীবনে বারবার বাধা আসে এবং অযথা খরচ বেড়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তৈরি হয় এক ধরণের অজানা অস্থিরতা।
ফাইল ছবি
আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি বিজ্ঞানের যুক্তিও কিন্তু একই কথা বলে। সারাদিন বাইরে ঘোরার ফলে জুতোর সোলে কোটি কোটি ব্যাক্টেরিয়া ও রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধে। রান্নাঘরের আর্দ্র ও উষ্ণ পরিবেশে এই জীবাণু দ্রুত বংশবিস্তার করতে সক্ষম । মেঝে থেকে তা সহজেই খাবারে মিশে গিয়ে টাইফয়েড, ডায়েরিয়া বা পেটের গুরুতর সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সংসারের শ্রীবৃদ্ধি, আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে রান্নাঘরের পবিত্রতা রক্ষা করা একান্ত জরুরি। তাই সুখের চাবিকাঠি হাতে রাখতে আজই বর্জন করুন রান্নাঘরে জুতো পরার অভ্যাস। মনে রাখবেন, পরিচ্ছন্ন হেঁশেলই হল সমৃদ্ধ গৃহকোণের ভিত্তি।
