অন্দরসজ্জায় এখন সবুজের ছোঁয়া বেশ মনোগ্রাহী। ড্রয়িং রুমের কোণে বা জানলার ধারে ইনডোর প্ল্যান্ট না থাকলে ঠিক জমে না। কিন্তু এই বাহারি গাছ বিপদ ডেকে আনছে না তো? আপনার আদরের সন্তান বা পোষ্যর কথা ভেবেছেন কি? সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনেক জনপ্রিয় ইনডোর প্ল্যান্ট আসলে বিষাক্ত। ঘরে ছোট শিশু বা কুকুর-বেড়াল থাকলে এই গাছগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলুন।
মারণফাঁদ যখন মানিপ্ল্যান্ট
বাঙালির ঘরে ঘরে মানিপ্ল্যান্ট বা ‘পোথোস’ অতি পরিচিত। এটি যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে। তবে এই গাছের পাতায় থাকে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ক্রিস্টাল। শিশু বা পোষ্যরা ভুল করে এই পাতা চিবিয়ে ফেললে মুখ ও গলা ফুলে যেতে পারে। শুরু হতে পারে প্রবল বমি ও শ্বাসকষ্ট।
এই গাছের সামান্য অংশ পেটে গেলে বিড়ালের কিডনি বিকল হতে পারে
সুন্দর কিন্তু মারাত্মক লিলি
পিস লিলি বা ইস্টার লিলি দেখতে অপূর্ব। কিন্তু বিড়ালের জন্য এই গাছ যমদূত সমান। এই গাছের সামান্য অংশ পেটে গেলে বিড়ালের কিডনি বিকল হতে পারে। এমনকী মারাও যেতে পারে প্রিয় পোষ্যটি। মানুষের ক্ষেত্রেও এটি ত্বকে জ্বালা ধরায়।
স্নেক প্ল্যান্ট ও অ্যালোভেরা
ঘর পরিষ্কার রাখতে স্নেক প্ল্যান্টের জুড়ি নেই। কিন্তু এটিও বিষমুক্ত নয়। এটি পেটে গেলে ডায়েরিয়া ও বমির সম্ভাবনা থাকে। এমনকী ওষধি গুণসম্পন্ন অ্যালোভেরাও বিপজ্জনক হতে পারে। এর উপরের স্তরের তিতকুটে অংশটি প্রাণীদের অন্ত্রে বিষক্রিয়া ঘটায়।
ক্যালাডিয়াম মারাত্মক বিষাক্ত
আরও কিছু ঘাতক
তালিকায় রয়েছে ক্যালাডিয়াম বা ‘এলিফ্যান্ট ইয়ার’। এর রঙিন পাতা শিশুদের আকর্ষণ করে। কিন্তু এটি মারাত্মক বিষাক্ত। এছাড়া ইংলিশ আইভি এবং ওলিয়াণ্ডার বা করবী ফুলও ঘর থেকে দূরে রাখাই ভালো। এগুলোতে এমন কিছু টক্সিন থাকে যা হৃৎস্পন্দনের গতি কমিয়ে দিতে পারে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
উদ্ভিদবিদদের মতে, সবুজ রাখার নেশা যেন বিপদের কারণ না হয়। ঘরে গাছ আনার আগে তার চরিত্র জেনে নিন। গাছগুলোকে এমন উচ্চতায় রাখুন যেখানে শিশু বা পোষ্যর হাত পৌঁছাবে না। সামান্য অস্বস্তি দেখলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সজাগ থাকলেই সুরক্ষিত থাকবেন।
