কম খরচে ঘর সাজাতে চান? শখ পূরণ করতে অনেকেই পুরনো জিনিসের দিকে ঝোঁকেন। অনলাইনে হোক বা পরিচিত কারও থেকে। সেকেন্ড হ্যান্ড আসবাব বা ঘড়ি কেনা এখন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এমনটা করার আগে সাবধান। অজান্তেই নেতিবাচক শক্তিকে নিজের গৃহে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন আপনি। বাস্তুবিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে প্রতিটি জড় বস্তুর সঙ্গে তার মালিকের শক্তি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায়। তাই না জেনে অন্যের ব্যবহৃত জিনিস কিনলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
বাস্তুবিদদের মতে, খাট বা বিছানা মানুষের জীবনের অত্যন্ত ব্যক্তিগত অংশ। ঘুমের সময় মানুষের শরীর থেকে নিঃসৃত শক্তি শয্যায় সঞ্চিত থাকে। তাই পুরনো খাট বা গদি কিনলে আগের মালিকের শারীরিক ব্যাধি বা দাম্পত্য কলহের রেশ আপনার সংসারেও ঢুকে পড়তে পারে। এর প্রভাবে অনিদ্রা বা অহেতুক মানসিক অশান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
একই কথা প্রযোজ্য ঘড়ির ক্ষেত্রেও। ঘড়ি কেবল সময় দেখায় না। এটি মানুষের উন্নতি ও ভাগ্যের প্রতীক। অন্যের ব্যবহৃত ঘড়ি হাতে পরলে আপনার নিজের অগ্রগতি থমকে যেতে পারে। আগের মালিকের সময় যদি খারাপ চলে, তবে সেই নেতিবাচক প্রভাব আপনার কেরিয়ারেও বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ছবি: সংগৃহীত
বাস্তু অনুযায়ী, অন্যের পুরনো জুতো ব্যবহার করলে কোষ্ঠীতে শনি দোষ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। একইভাবে অন্যের পোশাক ব্যবহারের ফলে সেই ব্যক্তির নেতিবাচক চিন্তা বা অসুস্থতা আপনার শরীরেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই ধরনের ব্যক্তিগত সরঞ্জাম সবসময় নতুন কেনাই শ্রেয়। কাঠের আসবাব আবার খুব দ্রুত নেতিবাচক শক্তি শোষণ করে। তাই পুরনো সোফা বা আলমারি কেনার আগে তার উৎস জানা জরুরি। অশান্তিপূর্ণ পরিবারের আসবাব আপনার ঘরের শান্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি দুই-ই বিঘ্নিত করতে পারে।
সবচেয়ে স্পর্শকাতর বস্তু হল ঝাড়ু। বাস্তু মতে এটি লক্ষ্মীর প্রতীক। অন্যের ব্যবহৃত ঝাড়ু বাড়িতে আনা মানেই অলক্ষ্মীকে আমন্ত্রণ জানানো। এতে পরিবারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক অভাব বাড়তে পারে।
তবে যদি বিশেষ প্রয়োজনে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস কিনতেই হয়, তবে তা শুদ্ধ করার কিছু টোটকা রয়েছে। জিনিসটি ঘরে আনার পর গঙ্গা জল বা নুন মেশানো জল দিয়ে ভালো করে মুছে নিন। রোদ প্রাকৃতিক শুদ্ধিকারক। তাই ব্যবহারের আগে কড়া রোদে রাখা ভালো। এছাড়া কর্পূর বা ধূপকাঠির ধোঁয়া দিলেও নেতিবাচক শক্তির প্রভাব অনেকটাই কমে। মনে রাখবেন, পুরনো সামগ্রী যেন আপনার নতুন জীবনের পথে কাঁটা হয়ে না দাঁড়ায়।
