সনাতন ধর্মে চৈত্র মাসের মাহাত্ম্য অপরিসীম। এই মাসেই হিন্দু নববর্ষের সূচনা। পালিত হয় বাসন্তী দুর্গাপূজা এবং রাম নবমী। তবে চৈত্র পূর্ণিমার তিথিটি ভক্তদের কাছে আরও বিশেষ। পুরাণ মতে, এই পুণ্য তিথিতেই রুদ্রাবতার বজরংবলীর জন্ম হয়েছিল। আগামী ২ এপ্রিল পালিত হতে চলেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ— হনুমান জয়ন্তী বা হনুমান জন্মোত্সব (Hanuman Jayanti 2026)। ভক্তদের বিশ্বাস, সংকটমোচনের আরাধনায় জীবনের সমস্ত ভয় ও বাধা বিঘ্ন দূর হয়। তবে কেবল মন্দির দর্শন বা উপবাস নয়, শাস্ত্র মতে এই বিশেষ দিনে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস ঘরে আনলে বজরংবলীর অশেষ কৃপা লাভ করা সম্ভব। এতে যেমন বাড়ে সুখ-সমৃদ্ধি, তেমনই দূর হয় বাস্তুদোষ।
ফাইল ছবি
গৃহশান্তিতে যা রাখা জরুরি
বজরংবলীর অত্যন্ত প্রিয় বস্তু হল সিঁদুর। হনুমান জয়ন্তীর দিন বাজার থেকে শুদ্ধ সিঁদুর কিনে আনুন। সেই সিঁদুর বজরংবলীর চরণে অর্পণ করলে সাধকের মনের বাসনা পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস। সিঁদুরের তিলক যেমন অশুভ শক্তিকে দূরে রাখে, তেমনই এটি ভক্তের ভক্তি ও সমর্পণের প্রতীক।
ফাইল ছবি
পাশাপাশি, হনুমানজির বানর রূপের ছবি বা মূর্তি এই দিনে গৃহে আনা অত্যন্ত শুভ। কথিত আছে, সংকটমোচনের এই রূপের ছবি ঘরে থাকলে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে না। গৃহের পরিবেশ পবিত্র থাকে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সদ্ভাব বজায় থাকে।
ফাইল ছবি
অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক
হনুমানজির প্রধান অস্ত্র হল গদা। এটি কেবল যুদ্ধের সরঞ্জাম নয়, বরং শুভত্বের জয়গান। হনুমান জয়ন্তীর দিন একটি ছোট গদা কিনে এনে বিধি মেনে পুজো করুন। পুজোর পর সেটি বাড়ির পূর্ব দিকে স্থাপন করলে সুফল পাওয়া যায়। এটি পরিবারের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রতীকী ছবি
এর পাশাপাশি তামা বা অন্য ধাতুর তৈরি ছোট কুঠার ঘরে আনাও অত্যন্ত ফলদায়ক। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, বাড়িতে কুঠার রাখলে নেতিবাচক শক্তির প্রবাহ নষ্ট হয় এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে। শত্রুর কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতেও অনেকে এই টোটকা মেনে চলেন।
পরিশেষে বলা যায়, ভক্তিই হল আসল। হনুমান জয়ন্তীর এই পবিত্র লগ্নে শুদ্ধ মনে এই সামগ্রীগুলি ঘরে আনলে এবং বজরংবলীর স্মরণ করলে সংসারে শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। ভক্তি আর বিশ্বাসের মেলবন্ধনেই দূর হয় জীবনের সমস্ত জটিলতা।
