বাড়িতে অতিথি আসার কথা, এদিকে কিছুতেই ঘরের গুমোট দুর্গন্ধ যাচ্ছে না। রুম ফ্রেশনারের উগ্র গন্ধে আবার হিতে বিপরীত কাণ্ড! কী করবেন এই অবস্থায়? এমন সমস্যার সমাধান যে লুকিয়ে রয়েছে রান্নাঘরেই, সে কথা অবশ্য অনেকেই জানেন না। আজ্ঞে হ্যাঁ, বাড়িতে যদি ভিনিগার থাকে, তবে চুটকিতে দূর হবে ঘরের বদগন্ধ।
অনেক বাড়িতেই জানলা থাকে এমন দিকে, যেখান দিয়ে সহজে বাইরের খোলা হাওয়া, সূর্যের আলো ভিতরে আসে না। ঘরের গুমোট গন্ধও বাইরে যেতে পারে না। মশলাদার রান্নার ঝাঁঝ গন্ধেও ঘর ভরে ওঠে অনেক সময়ে। এছাড়া, বাড়িতে যদি পোষ্য থাকে, তবে তার মলমূত্র থেকেও খারাপ গন্ধ তৈরি হতে পারে। বারেবারে ফিনাইল-জলে ঘর মুছেও তা যায় না। কাজে দেয় না রুম ফ্রেশনারও। ঘরের বায়ু চলাচল ব্যবস্থা যদি অনুকূল না হয়, তবে রুম ফ্রেশনারের আণুবীক্ষণিক কণা ঘরের হাওয়াতেই থেমে থাকে। যা দীর্ঘ সময় ধরে মানবশরীরে প্রবেশ করলে ভবিষ্যতে বাধাতে পারে ফুসফুসের রোগ। এমন পরিস্থিতিতে ভিনিগার যেন মহৌষধি!
কীভাবে কাজে লাগবে ভিনিগার?
চওড়া-মুখ বাটিতে বিশুদ্ধ হোয়াইট ভিনিগার ঢেলে, তা এককোনে রেখে দিতে হবে রাতভর। বাটি চাপা দিলে চলবে না, ভিনিগারকে ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হতে দিতে হবে। এতে থাকে অ্যাসেটিক অ্যাসিড। যা রান্নায় ব্যবহার করলে, মাছ-মাংস নরম হয়। এক্ষেত্রে অবশ্য তার কাজ অন্য। হাওয়ায় উপস্থিত গন্ধ-সৃষ্টিকারী যৌগগুলিকে অসাড় করে তোলে এই অ্যাসিড। ফলে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা এমনভাবে ভিনিগার রাখতে পারলে দেখা যাবে, ঘরের দুর্গন্ধ একেবারেই কমে গিয়েছে।
ভিনিগারে কোনওরকম কৃত্রিম গন্ধ থাকে না বলে, শ্বাস নিতেও সমস্যা হবে না। রান্নার গন্ধ, পোড়া বা তেলচিটে গন্ধ, দেওয়ালের স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ, স্নানাগারের ঝাঁজালো গন্ধ, সবের সঙ্গে লড়তে এক বাটি ভিনিগারই যথেষ্ট!
কাজে লাগবে না কোন ক্ষেত্রে?
মাথায় রাখতে হবে, ভিনিগার কিন্তু ‘এয়ার পিউরিফায়ার’ নয়। অর্থাৎ, হাওয়াকে পরিশুদ্ধ করার ক্ষমতা এতে নেই। তাই গন্ধ যদি ব্যাকটেরিয়া বা কেমিক্যালের হয়, সেক্ষেত্রে এ উপায় কাজে দেবে না। এমন অবস্থায় বরং তৎক্ষণাৎ শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ মিস্ত্রী বা প্লাম্বারের।
