বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। আর এই পার্বণে কর্পূর এক অপরিহার্য উপাদান। কেবল ধর্মীয় আচারেই নয়, ভেষজ গুণাগুণের কারণে ত্বকের যত্ন এবং ঘরোয়া পরিবেশে স্নিগ্ধতা বজায় রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার। তবে মুশকিল হল বাজার চলতি কর্পূর নিয়ে। বর্তমানে খাঁটি কর্পূরের বদলে রাসায়নিক মেশানো সিন্থেটিক কর্পূরের রমরমা বেড়েছে। এই অশুদ্ধ কর্পূরের ধোঁয়া শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এমনকী ত্বকের মারাত্মক ক্ষতিও করতে পারে।
খাঁটি কর্পূর আসলে কী? এমন প্রশ্ন মাথায় আসা খুব স্বাভাবিক। প্রকৃতিতে ‘সিনামোমাম ক্যামফোরা’ নামক গাছের ডাল বা ছাল থেকে বাষ্প পাতন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত কর্পূর পাওয়া যায়। একে অনেক সময় ‘ভীমসেনি কর্পূর’ বলা হয়। এটি সম্পূর্ণ ভেষজ এবং নিরাপদ।
‘সিনামোমাম ক্যামফোরা’ নামক গাছের ডাল বা ছাল থেকে বাষ্প পাতন প্রক্রিয়ায় খাঁটি কর্পূর পাওয়া যায়
খাঁটি কর্পূর চিনবেন কীভাবে?
১) খাঁটি কর্পূর জ্বালালে কোনও ছাই বা অবশিষ্টাংশ থাকে না। এটি পুরোপুরি বাতাসে মিলিয়ে যায়। যদি দেখেন কর্পূর পোড়ানোর পর পাত্রে কালো দাগ বা ছাই পড়ে আছে, তবে বুঝবেন সেটি রাসায়নিক মেশানো।
২) একটি স্বচ্ছ কাচের পাত্রে জল নিয়ে তাতে কর্পূরের টুকরো দিন। আসল কর্পূর ওজনে ভারী হওয়ায় সহজেই জলের নিচে ডুবে যায়। অন্যদিকে, সিন্থেটিক বা ভেজাল কর্পূর জলের ওপর ভাসতে থাকে।
৩) আসল কর্পূর অনেকটা স্বচ্ছ স্ফটিক বা ক্রিস্টালের মতো হয়। এটি আঙুলের চাপে সহজেই ভেঙে যায়। কৃত্রিম কর্পূর সাধারণত অতিরিক্ত সাদা, হলদেটে বা কালচে রঙের হয় এবং বেশ শক্ত হয়।
খাঁটি কর্পূর জ্বালালে কোনও ছাই বা অবশিষ্টাংশ থাকে না
৪) আসল কর্পূর খোলা হাওয়ায় রাখলে তা ধীরে ধীরে উবে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর দেখবেন এর আকার ছোট হয়ে এসেছে। নকল কর্পূরের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না।
৫) আসল কর্পূরের গন্ধ অত্যন্ত মনোরম এবং স্নিগ্ধ। এই সুগন্ধ নাকে গেলে অস্বস্তি হয় না, বরং মন শান্ত হয়। রাসায়নিকযুক্ত কর্পূর থেকে উগ্র ও বিটকেল গন্ধ বেরোয়।
অশুদ্ধ কর্পূরের ধোঁয়া থেকে অ্যালার্জি বা ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উৎসবের মরশুমে কর্পূর কেনার আগে এই ছোট ছোট পরীক্ষাগুলো করে নেওয়া জরুরি। সঠিক জিনিস বেছে নিলে শরীর ও পরিবেশ— দুই-ই ভালো থাকবে।
