০, ৪৮ ও ৮। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং লখনউয়ের বিরুদ্ধে পঞ্চাশের গণ্ডি পেরয়নি বৈভব সূর্যবংশী। হয়তো এই 'ব্যর্থতা'ই মনে মনে তাতিয়ে দিয়েছিল বছর পনেরোর ‘বিস্ময় কিশোর’কে। জবাব দেওয়ার জন্য সে বেছে নিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। প্যাট কামিন্সের দলের বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরি করে আবারও যেন তার ব্যাট বুঝিয়ে দিল, কেন তাকে ভবিষ্যতের তারকা বলা হচ্ছে।
ব্যাট হাতে মাঠে নেমে রেকর্ড গড়াটা যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে বিহারের সমস্তিপুরের এই তারকা। শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালাল বৈভব। গত ম্যাচে লখনউয়ের বিরুদ্ধে ওপেন করতে নেমে ১১ বলে মাত্র ৮ রান করেও জোড়া রেকর্ড গড়ে ফেলেছিল। আইপিএলের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম হিসাবে ৫০০ রানের গণ্ডি পেরিয়েছিল। কিন্তু তাতে খুশি খুশি হতে পারেনি সে। কারণ বড় রান যেন কিছুটা থমকে গিয়েছিল তার ব্যাট থেকে।
তবে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। এদিন টসে জিতে রাজস্থানকে ব্যাট করতে পাঠায় সানরাইজার্স অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। এরপর একেবারে তুরীয় মেজাজে শুরু করল বৈভব। প্রথম ওভারে প্রফুল্ল হিঙ্গেকে টানা চার ছক্কা হাঁকাল বাঁহাতি ওপেনার। মনে রাখতে হবে, এই হিঙ্গেই বৈভবকে আউট করে জানিয়েছিলেন, সতীর্থদের তিনি বলেকয়ে নেমেছিলেন, প্রথম বলেই আউট করবেন বাঁহাতি ব্যাটারকে। সে কথা হয়তো অক্ষরে অক্ষরে মনে রেখেছিল বৈভব। প্রথম ওভারেই উঠল ২৫ রান। তবে ১০ রানের বেশি করতে পারেননি যশস্বী জয়সওয়াল। ঈশান মালিঙ্গার বলে সাজঘরে ফেরেন মাত্র ১০ রানে। সতীর্থ সাত তাড়াতাড়ি ফিরে গেলেও মনোবলে ধাক্কা খায়নি বৈভবের। সানরাইজার্স বোলারদের পালটা মেরে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করল সে। যা আইপিএলের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এরপর হেলমেট খুলে আকাশের দিকে হৃদয়ের ইশারা করল বৈভব। তারপর স্যালুট। এত কম বয়সেও এমন সংযত এবং শান্ত সেলিব্রেশনে মজেছে নেটপাড়াও।
১২ দিন আগে এই সানরাজার্সের বিরুদ্ধেই প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হতে হয়েছিল বৈভবকে। সেই হতাশার জবাব সে দিল শনিবার, একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে। সেঞ্চুরির ইনিংস সাজানো ৫ চার, ১২ ছক্কা দিয়ে। যদিও সেঞ্চুরির পরের বলেই সাজঘরে ফিরতে হল তাকে। ১৫ বছর বয়সি এই ব্যাটারের ৩৭ বলে ১০৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ২২৮ রান তুলল রাজস্থান রয়্যালস।
ব্যক্তিগত ৩৪ রানে একবার জীবন ফিরে পেয়েছিল বৈভব। ঈশান মালিঙ্গার বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছিল। কিন্তু অনিকেত বর্মা ক্যাচ ধরলেও বাউন্ডারি লাইনে পা লেগে যায়। ফলে সুযোগ হাতছাড়া হয়। জীবন পেয়ে এরপর আরও ভয়ংকর ব্যাটিং শুরু বৈভবের। ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরি এল। সিএসকে’র বিরুদ্ধে ১৭ বলে ৫২ এবং আরসিবি’র বিরুদ্ধে ২৬ বলে ৭৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর এদিন সেঞ্চুরির ঘড়া কানায় কানায় পূর্ণ। ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি করল সে। গত বছর গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে দ্রুততম সেঞ্চুরির নজির গড়েছিল বৈভব। এবার শতরান ৩৬ বলে। একই সঙ্গে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে দু'টি সেঞ্চুরির নজির এখন এই 'বিস্ময় কিশোরে'র নামে। একই সঙ্গে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসাবে টি-টোয়েন্টিতে হাজার রানের কৃতিত্বও তার নামে।
