মহারাষ্ট্রের ভুয়ো দুধ কাণ্ডে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে! ভেজাল ‘সিন্থেটিক দুধে’ পাওয়া গিয়েছে পাম অয়েল, সস্তার গুঁড়ো দুধ, এমনকী ডিটারজেন্টের উপাদানও! অভিযোগ, গত ছয় মাসে ২.৩ কোটিরও বেশি লিটার সন্দেহভাজন ভেজাল দুধ বাজারে পৌঁছেছে। ভেজাল দুধের ফলে পুষ্টিগুণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি হজমের সমস্যা, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই, তাতে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাঙালির কপালে। বেশিরভাগ গৃহস্থ বাড়িতেই নিয়মিত গরুর দুধ নেওয়ার চল আছে (Think Your Milk Is Pure?)। চায়ে বা সকালের জলখাবারে, অথবা রোজের টক দই বসাতে দুধ প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ব্যবহার হয়। এক গ্লাস দুধ মানেই পুষ্টি— এই বিশ্বাস চলে এসেছে চিরকাল ধরে। কিন্তু বাড়িতে যে দুধ আসছে, তা যে সত্যিই খাঁটি, তা বুঝবেন কীভাবে?
খাঁটি দুধ ঘন, ভেজাল দুধ তুলনায় বেশি তরল।
১. দুধে জল মেশানো হয়েছে কি?
কাচ বা টাইলসের মতো মসৃণ জায়গায় এক ফোঁটা দুধ ফেলুন। তারপর তা সোজা করে দাঁড় করান। খাঁটি দুধ ধীরে ধীরে নেমে আসবে ও সাদা দাগ রেখে যাবে। জল মেশানো দুধ দ্রুত গড়িয়ে যাবে, দাগ হবে না বললেই চলে।
২. দুধে কি বাড়তি স্টার্চ মেশান হয়েছে?
দুই টেবিলচামচ দুধে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন সলিউশন ফেলুন। নীল রং হলে স্টার্চ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রং না বদলালে স্টার্চ থাকার সম্ভাবনা কম।
৩. দুধে ডিটারজেন্ট রয়েছে কি?
সমপরিমাণ দুধ ও জল স্বচ্ছ গ্লাসে নিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকান। অনেকক্ষণ ঘন ফেনা হয়ে থাকলে, ডিটারজেন্ট মেশানো থাকতে পারে। ফেনা স্বাভাবিক হলে এবং দ্রুত মিলিয়ে গেলে, দুধ খাঁটি বলা যায়।
৪. গন্ধ ও স্বাদে তফাৎ রয়েছে কি?
সিন্থেটিক দুধে অনেক সময় সাবানের তীব্র গন্ধ থাকে। খাঁটি দুধের গন্ধ হালকা ও স্বাভাবিক। সাবানের মতো গন্ধ বা সামান্যতম তেতো স্বাদ পেলেই সতর্ক থাকুন।
৫. দুধ ফুটিয়ে দেখেছেন কি?
দুধ গরম করার সময় খেয়াল করুন, অস্বাভাবিক দ্রুত ঘন হয়ে গেল কি-না। অথবা গরম করা মাত্র তা হালকা হলুদাভ রং ধারণ করল কি-না। এমন পরিবর্তন ভেজালের ইঙ্গিত হতে পারে।
সাবানজাতীয় গন্ধ নাকে এলে তৎক্ষণাৎ সচেতন হতে হবে।
ভেজাল দুধ থেকে বাঁচতে কী করবেন?
বিশ্বস্ত ডেয়ারির দুধ কিনুন। প্যাকেটের সিল, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ দেখে নিন। খোলা দুধ কিনলে উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। সন্দেহ হলে স্থানীয় খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
মনে রাখবেন, বাড়িতে করা এই পরীক্ষাগুলি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে, কিন্তু এগুলি বৈজ্ঞানিক বা নিশ্চিত প্রমাণ নয়। ভেজাল নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে প্রয়োজন অনুমোদিত ল্যাবরেটরির রাসায়নিক পরীক্ষা।
