একই ছাদের নিচে দুই ভিন্ন মেরুর মানুষ। একজনের অভিজ্ঞতার ঝুলি পূর্ণ। অন্যজন আসছেন নতুনের স্বপ্ন নিয়ে। বাঙালির অন্দরমহলে শাশুড়ি ও বউমার রসায়ন নিয়ে গল্পের শেষ নেই। কোথাও সেই সম্পর্ক চিনির মতো মিষ্টি। আবার কোথাও যেন তিতকুটে নিম। ব্যক্তিত্বের সংঘাত আর মতের অমিল থেকেই সংসারে জ্বলে ওঠে অশান্তির আগুন। যার আঁচ পড়ে গোটা পরিবারের ওপর। অথচ এই দুই স্তম্ভের উপরেই ন্যস্ত সংসারের যাবতীয় সুখ-সমৃদ্ধি। একটু সচেতন হলে আর বাস্তুর কিছু নিয়ম মেনে চললেই সম্পর্কের এই তিক্ততা দূর করা সম্ভব। জেনে নিন কীভাবে শাশুড়ি-বউমার সম্পর্কে ফেরাবেন হারানো মাধুর্য।
প্রতীকী ছবি
বাস্তুশাস্ত্র বলছে, অন্দরের সাজসজ্জা আর ঘরের দিক্-নির্ণয় মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। শাশুড়ি ও বউমার নিত্য অশান্তি কমাতে সবার আগে শোওয়ার ঘরের দিকে নজর দিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির বড়দের অর্থাৎ শ্বশুর-শাশুড়ির ঘর হওয়া উচিত দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে। অন্যদিকে, দম্পতি বা ছেলে-বউয়ের ঘর বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে থাকা শুভ। ঘরের দেওয়ালের রঙের ক্ষেত্রেও সাবধান হওয়া জরুরি। খুব গাঢ় বা উগ্র রং এড়িয়ে ঘরের দেওয়ালে হালকা ও স্নিগ্ধ কোনও রং ব্যবহার করুন। এতে মন শান্ত থাকে এবং চট করে মেজাজ হারানোর সম্ভাবনা কমে।
রান্নাঘর হল গৃহিণীদের মূল বিচরণ ক্ষেত্র। বাস্তুমতে, বাড়ির ঠিক মাঝখানে কখনওই রান্নাঘর করা উচিত নয়। এতে ঝগড়াঝাঁটি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। রান্নাঘর সবসময় বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে হওয়া বাঞ্ছনীয়। খেয়াল রাখুন কিচেন ক্যাবিনেটের রঙের দিকেও। সেখানে কালোর বদলে ব্যবহার করুন যে কোনও হালকা উজ্জ্বল রং।
প্রতীকী ছবি
সংসারে পজিটিভ এনার্জি বা ইতিবাচক শক্তি বজায় রাখতে শ্রীকৃষ্ণের চন্দন কাঠের মূর্তি বাড়িতে রাখা অত্যন্ত শুভ। এমন জায়গায় এই মূর্তিটি রাখুন যেখানে যাতায়াতের পথে সবার নজর পড়ে। এছাড়া উঠোনে বা বারান্দায় একটি তুলসী গাছ রাখা একান্ত জরুরি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বাললে সম্পর্কের জটিলতা কাটে। অন্দরে জুঁই বা চাঁপা ফুলের গাছ লাগালে বা সুগন্ধি রাখলে মনের তিক্ততা কমে ও মাধুর্য বাড়ে।
মনে রাখবেন, বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ হল সবথেকে পবিত্র দিক। ভুলেও এই দিকে ডাস্টবিন বা আবর্জনা জমিয়ে রাখবেন না। এই জায়গা সবসময় পরিষ্কার থাকলে সম্পর্কের মেঘ কেটে রোদ উঠবেই। বাস্তুর এই ছোটখাটো টোটকা মানলে যেমন অন্দরের সৌন্দর্য বাড়বে, তেমনই শাশুড়ি-বউমার ঝগড়াও বদলে যাবে অমলিন ভালোবাসায়।
