জীবনে চলার পথে এমন কিছু খাতে খরচ হয়, যা না করলেও বিশেষ ক্ষতি হয় না। তবে স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে তা করেন অধিকাংশ। কোনও ক্ষেত্রে সামাজিক সম্মান বজায় রাখাও এক্ষেত্রে একটা কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেউ আবার বেহিসেবি। কালকের কথা চিন্তা না করেই, অপ্রয়োজনীয় খাতে খরচ করে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি সব থেকে বেশি অপ্রয়োজনীয় খরচ কোনগুলি?
১. ক্রেডিট কার্ড- বিত্তশালী হন বা মধ্যবিত্ত, এখন প্রায় সকলের কাছেই রয়েছে একাধিক ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড। যা আদতে অপচয়। এতে না চাইতেও বাড়ে খরচ ও দেনা। নিজের অজান্তেই উচ্চ সুদের ফাঁদে পড়ে যান ব্যবহারকারীরা। এদিকে বাড়তে থাকে অতিরিক্ত খরচের পরিমান। কোনও কারণে বিল মেটাতে না পারলে তার প্রভাব পড়ে ক্রেডিট স্কোরে।
২. ওয়ারেন্টি- ওয়ারেন্টি হল কোনও পণ্য কেনার পর একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত-এর গুণমান, কার্যকারিতা এবং ত্রুটি মেরামতের দায়িত্ব প্রস্তুতকারকের বা বিক্রেতার, এ সংক্রান্ত লিখিত প্রতিশ্রুতি। যার জন্য ক্রেতাকে গুণতে হয় টাকাও। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কোনও সমস্যা হলে সংস্থা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে না। বিভিন্ন শর্ত চাপিয়ে বিষয়টা এড়িয়ে যায়। ফলে যে টাকা ওয়ারেন্টি বাবদ ব্যয় করা হয়, তা জলে যায়।
৩. ওটিটি সাবক্রিপশন- ওটিটি সাবক্রিশনের জন্য অর্থ ব্যয় ও অপ্রয়োজনীয়। একবার কোনও কারণে কেউ সাবক্রিপশন নিয়ে নিলে তা থেকে সরে আসা বেশ সমস্যার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন হয়ে যায় অটো রিনুয়্যাল। ফলে ইউজারের অজান্তেই অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেয় টাকা। অনেকেই চাইলেও বাতিল করার অপশন খুঁজে পান না। ফলে মাসের পর মাস গুণতে হয় টাকা। এখানেই শেষ নয়, এর সূত্র ধরে জালিয়াতদের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
৪. লটারি- অনেকেই আছেন যারা হঠাৎ অর্থপ্রাপ্তির আশায় নিয়মিত লটারির টিকিট কেনেন। দেখা যায় বছরের পর বছর টিকিটে ব্যয় করছেন একজন, হয়তো বছরে একদিন সামান্য কিছু টাকা পেলেন। এতে আরও বেড়ে যায় পাওয়ার আশা, ফলে লটারির নেশা পিছন ছাড়ে না। যা অপ্রয়োজনীয় ব্যয়। টিকিটের অর্থ সঞ্চয় করতে পারলে তা ভবিষ্যতে অনেক কাজে লাগে।
৫. কেউ সামাজিক সম্মান বজায় রাখতে, কেউ আবার স্রেফ শখের বশে অর্থনৈতিক অবস্থা একটু ভালো হলেই গাড়ি কিনে ফেলেন। কিন্তু কথাতেই আছে, গাড়ি কেনা হাতি পোষার সমান। অর্থাৎ এর খরচ অনেক। যা অপ্রয়োজনীয়।
