পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় হাসপাতাল। তবে মেডিক্যাল কলেজে ৩০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের খরচ জোগাড় করতে পারেননি বৃদ্ধ। কিন্তু দমে না গিয়ে এই পরিস্থিতিতে পায়ে টানা ভ্যানে স্ত্রীকে বসিয়ে হাসপাতালে পৌঁছলেন ওড়িশার সম্বলপুরের বাবু লোহার। সোশাল মিডিয়ায় দৌলতে এই ঘটনা সামনে আসতেই মুখ পুড়েছে ওড়িশার বিজেপি সরকারের।
জানা গিয়েছে, ৭৫ বছর বয়সি বাবু লোহারের স্ত্রী জ্যোতি (৭০) পক্ষাঘাতগ্রস্ত। চলাফেরার সামর্থ্য নেই তাঁর। বাড়িতে পড়ে থাকা স্ত্রীকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, মেডিক্যাল হাসপাতাল ছাড়া এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। নিকটবর্তী মেডিক্যাল কলেজ সম্বলপুর থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে কটকে। অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া সেখানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে অ্যাম্বুল্যান্সের টাকা জোগাড় করার মতো সামর্থ্য ছিল না বাবুর। তবে দমে না গিয়ে নিজের একমাত্র সম্বল পায়ে টানা ভ্যানেই এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্ত্রীকে ভ্যানে বসিয়ে রওনা দেন কটকের উদ্দেশে।
সংবাদমাধ্যমকে বাবু জানিয়েছেন, ৩০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই পথ স্ত্রীকে নিয়ে পাড়ি দেওয়া মোটেই সহজ ছিল না। কখনও কাঁচা রাস্তা, কখনও হাইওয়ে ধরে ভ্যান চালিয়ে গিয়েছেন বাবু। কনকনে ঠাণ্ডায় রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। বাবু জানান, পথে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন তাঁকে। কেউ খাবার দিয়েছেন, কেউ জল, কেউ কেউ আবার আর্থিকভাবেও সাহায্য করেছেন বৃদ্ধকে।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর স্ত্রীকে কটকের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিও করান বাবু। সেখানে ভালোভাবেই চিকিৎসা চলছে তাঁর। বৃদ্ধ বলেন, স্ত্রী আর একটু সুস্থ হলেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে আনবেন তিনি। যদিও এই ঘটনা সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিজেপি শাসিত ওড়িশার চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে।
