shono
Advertisement
Gujrat Shaking Well

ঝোড়ো হাওয়া নেই, হয়নি ভূমিকম্পও, তবু ৫ দিন ধরে দুলছে কুয়োর জল! অজানা আতঙ্কে গ্রামবাসী

গান্ধীনগরের ইনস্টিটিউট অব সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ (ISR) জানিয়েছে, ওই এলাকায় কোনো সক্রিয় ফল্ট লাইন নেই, ফলে ঘটনাটির সঙ্গে ভূমিকম্পের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 06:20 PM Aug 07, 2026Updated: 07:52 PM Aug 07, 2026

বলা নেই, কওয়া নেই, আচমকা ফুলে উঠতে লাগল কুয়োর ভিতরের জল! অথচ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া গ্রামবাসীদের কাছে করার মতো আর কিছুই নেই। এ যেন কোনও সিনেমার দৃশ্য, যে সিনেমায় এর পরেই ঘটতে চলেছে আরও ভয়াবহ কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়! কুয়োর তলদেশ থেকে কি তবে উঠে আসবে ভয়াল জলদৈত্য (Gujrat Shaking Well)?

Advertisement

ঘটনাটি গুজরাটের মোরবি জেলার বিরপারদা গ্রামের। সে গ্রামের একটি ১৮ ফুট গভীর কুয়ো গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আচমকাই কুয়োর জলে শুরু হয়েছে কম্পন, সমুদ্রের মতো উথালপাতাল হয়ে চলেছে কুয়োর জল। সাধারণত আচমকা ভূমিকম্প শুরু হলে, মাটির উপর থাকা যে কোনও বস্তুই এমন দুলতে থাকে। বিশেষত জলস্তর, তা সে বোতলের জল হোক পুকুরের। কিন্তু এক্ষেত্রে এমন কোনও কিছুই ঘটেনি।

সূত্র: ইন্টারনেট।

কুয়োটি কৃষক প্রাণজীবন সাদারিয়ার খামারে অবস্থিত। সূত্র মতে, ২ আগস্ট, ২০২৬, সকালে খামারে এসে কৃষকটি প্রথম দেখেন কুয়োর জল উপচে পড়ছে এবং জলের ওপর ক্রমাগত ঢেউ তৈরি হচ্ছে। এরপর থেকে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে এমনটা হয়ে চলেছে। উল্লেখ্য, কুয়োটি মাত্র তিন মাস আগেই খনন করা হয়েছিল। অনেকেই প্রাথমিকভাবে ভেবেছিল, এ হয়তো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস। তবে জেলা প্রশাসন সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে।

মোরবির জেলা ভূতত্ত্ববিদ জে. এস. ভাধের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ভূমিকম্পের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাঁর মতে, ভারী বর্ষণের ফলে ভূগর্ভস্থ জলাধার দ্রুত পূর্ণ হয়েছে। এতে শিলার ক্ষুদ্র ছিদ্র ও ফাটলে আটকে থাকা বাতাস বেরিয়ে আসছে, যা কুয়োর জলে ক্রমাগত আলোড়ন সৃষ্টি করছে। গান্ধীনগরের ইনস্টিটিউট অব সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ (ISR)-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই এলাকায় কোনো সক্রিয় ফল্ট লাইন নেই, ফলে ঘটনাটির সঙ্গে ভূমিকম্পের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

সূত্র জানাচ্ছে, এ খবর পৌঁছেছে গুজরাট সরকার পর্যন্তও। গান্ধীনগর থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক তদন্ত করবে। চূড়ান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই বিরল ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই এমন ঘটনা জুড়ে কৌতূহলের শেষ থাকেনি স্থানীয় মানুষের। কুয়োর জলের আলোড়নের ফোটো-ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাছাড়া টানা পাঁচ দিন ধরে এই অবিরাম ঢেউ ও কম্পন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। কোন বৈজ্ঞানিক রহস্য রয়েছে এর নেপথ্যে? নাকি রয়েছে বৃহত্তর কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা? উত্তরের অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement