যুদ্ধের জেরে চারদিন টানা রক্তক্ষরণের পর কিছুটা শোধরাল বাজার। মঙ্গলবার ৬০০ পয়েন্টের বেশি বাড়ল সেনসেক্স। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিফটিও। যদিও গত কয়েকদিনের বিপুল ধাক্কার পর এই সংশোধনকে সাময়িক বলেই মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ স্থায়ী হলে বাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। অনিশ্চয়তার বাজারে এখন সেই আতঙ্কেই কাঁটা বিনিয়োগকারীরা।
মঙ্গলবার সকালে বাজার খোলার পরই প্রায় ৫০০ পয়েন্টের বৃদ্ধি দেখা যায় সেনসেক্সে। ১০০ পয়েন্টের বেশি বাড়ে নিফটি। বেলা সাড়ে তিনটেয় বাজার বন্ধ হওয়ার পর দেখা যায় ৬৩৯.৮২ পয়েন্ট অর্থাৎ ০.৮২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮,২০৫.৯৮তে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিফটিও। রিপোর্ট বলছে, দিন শেষে নিফটি ২৩৩.৫৫ পয়েন্ট অর্থাৎ ০.৯৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪,২৬১.৬০ তে। তুলনামূলক অনেকটাই বেড়েছে ব্যাঙ্ক নিফটি ৯৩১.০০ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.৬৬ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ব্যাঙ্ক নিফটি দাঁড়িয়ে রয়েছে ৫৬,৯৫০.৮০তে।
বেলা সাড়ে তিনটেয় বাজার বন্ধ হওয়ার পর দেখা যায় ৬৩৯.৮২ পয়েন্ট অর্থাৎ ০.৮২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮,২০৫.৯৮তে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিফটিও।
যে শেয়ারগুলিতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে সেগুলি হল, শ্রীরাম ফিনান্স লিমিটেড (+৭.৬৭%), পিএফসি (+৪.৯৩%), ডিক্সন টেকনো (+১১.২৬%), সুজলন এনার্জি (+৪.৬২%), টিভিএস মোটর (+৪.৩৪%)। বাজার বাড়লেও বিরাট ধাক্কা খেয়েছে এনার্জি সেক্টরগুলি। যেমন, সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ (-১.৭২%), ভারত পেট্রোলিয়াম (-১.৫৯%), ওএনজিসি (-০.৫৯%), ইন্ডিয়ান অয়েল (-০.৭৯%)। লাগাতার ধাক্কা খাচ্ছে প্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস। এদিনও ১.৪৮ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে এই শেয়ারে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে গত এক সপ্তাহে ভারতের বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে বিনিয়োগকারীদের ৩১ লক্ষ কোটি টাকা। গত মাস থেকে নতুন করে বিদেশি বিনিয়োগ শুরু হলেও ইরান যুদ্ধে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন সকলেই। যেভাবে তেলের সংকট শুরু হয়েছে বিশ্বে তাতে এই মুহূর্তে বিনিয়োগের রাস্তায় না থেকে ভালো সময়ের অপেক্ষা করারই পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত ৪ দিনে বাজার বিরাট ধাক্কা খাওয়ার পর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা সংশোধন হয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারে। তবে যুদ্ধের মাঝে এই সংশোধন দেখে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
