এআই সম্মেলনে খালি গায়ে বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও একজন। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম জিতেন্দ্র যাদব। তিনি মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের অনুমান, তিনি যুব কংগ্রেসেরই কর্মী। কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তোলা তাঁর একটি ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে।
এআই সম্মেলনে কংগ্রেসি বিক্ষোভের ঘটনায় আগেই চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ধৃতদের দিল্লির আদালতে হাজির করিয়ে তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। জিতেন্দ্রও পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের অনুমান, ধৃতদের আরও বড় মাপের কোনও ঝামেলা পাকানোর উদ্দেশ্য ছিল।
শনিবার ধৃতদের পাটিয়ালা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। সেখানে তাঁরা জামিনের আবেদন করেছিলেন। তার বিরোধিতা করে দিল্লি পুলিশ দাবি করে, অভিযুক্তেরা দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বদনাম করেছেন। বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে নেপালের জেন-জ়ি আন্দোলনের ধাঁচে। ধৃতদের আরও বড় মাপের কোনও হাঙ্গামা করার পরিকল্পনা ছিল কি না, এই হামলায় কারা ধৃতদের আর্থিক সাহায্য করেছে, তা জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। পুলিশের আবেদন মেনে নিয়ে আদালত ধৃতদের পাঁচ দিন পুলিশে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
গোটা ঘটনা নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস (সে দিন) যা করেছে, তা অত্যন্ত নোংরা ও নগ্ন রাজনীতি।’’ তাঁর সংযোজন, "কংগ্রেস নেতারা ওই সম্মেলনে যা করেছেন, তা থেকেই বোঝা যায় দেশের প্রাচীনতম দলটি আদর্শগত ভাবে কতটা দেউলিয়া ও দরিদ্র হয়ে পড়েছে। কংগ্রেস এখন নিজের দেশকেই বদনাম করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আসলে দেশের মধ্যে এমন কিছু রাজনৈতিক দল রয়েছে, যারা ভারতের সাফল্য সহ্য করতে পারছে না।’’ মোদির দাবি, ‘‘ওই সম্মেলনে ৮০টি দেশের প্রতিনিধি, কুড়ি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা যোগ দিয়েছিলেন। গোটা দেশের মানুষ এতে গর্ববোধ করেছেন। কিন্তু কংগ্রেস ও তাদের ইকোসিস্টেম ওই সম্মেলনকে নোংরা ও নগ্ন রাজনীতি করার আঙিনায় পরিণত করেছে। বিদেশি অতিথিদের সামনে কংগ্রেসের নেতারা আদুল গায়ে উপস্থিত হয়েছেন।’’
কংগ্রেসের উদ্দেশে মোদির প্রশ্ন, ‘‘দেশবাসী যখন অবহিত যে, আপনারা নগ্ন, তখন জামাকাপড় আলাদা করে খোলার প্রয়োজন কেন হল?’’ দেশকে ছোট করার পাশাপাশি কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁকেও যে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানিয়েছেন, তা নিয়েও সরব হয়েছেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেসের নেতারা আমায় ঘৃণা করেন। তাঁরা আমার কবর খোঁড়ার কথা বলেন। তাঁরা আমার মাকে অপমান করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। কংগ্রেসের মনে রাখা উচিত ছিল, এটা বিজেপির অনুষ্ঠান ছিল না। সেখানে বিজেপি নেতারাও উপস্থিত ছিলেন না। ওই সম্মেলন ছিল দেশের জন্য।’’ পাল্টা আক্রমণে কংগ্রেস জানিয়েছে, প্রশ্ন করা বন্ধ করা হবে না। সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন চালিয়ে যাওয়া হবে।
