হেমন্ত মৈথিল, লখনউ: স্বামীর খুনের ঘটনায় ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তাই সরাসরি ধন্যবাদ জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে। দুষ্কৃতীরাজের বিরুদ্ধে যোগীর 'জিরো টলারেন্স' নীতিরও প্রশংসা করেন তিনি। এই 'অপরাধে' সমাজবাদীর পার্টির (এসপি) বিধায়ক পূজা পালকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন অখিলেশ যাদব।
বৃহস্পতিবার এসপি প্রধান অখিলেশ এক বিবৃতিতে জানান, রাজু পালের স্ত্রী পূজাকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "সতর্ক করার পরেও দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং গুরুতর শৃঙ্খলাহীনতায় দলের ক্ষতি হয়েছে। এই কারণে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হচ্ছে তাঁকে।" অখিলেশ আরও বলেন, "তিনি (পূজাকে) আর কোনও দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না কিংবা ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে না তাঁকে।"
যোগীর প্রশংসা করে এসপি বিধায়ক বহিষ্কৃত হওয়ার এই ঘটনায় আসরে নেমেছে বিজেপি। এক বিবৃতির গেরুয়া শিবিরের মন্তব্য, এসপির এই আচরণে বিজেপির প্রতি তাদের তীব্র রাজনৈতিক বিদ্বেষ প্রকাশ্যে এসেছে। পাশাপাশি এই ঘটনা দলিত বিরোধী আচরণও বটে। উল্লেখ্য, রাজু এবং পূজা পাল দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। বলা বাহুল্য, দলীয় বিধায়ককে বহিষ্কার করে খানিক অস্বস্তিতেও পড়েছে সমাজবাদী পার্টি। এরপর যদি পূজা গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন, তবে এই অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে ২৫ জানুয়ারি পূজা পালের স্বামী রাজু পালকে গুলি করে খুনে করে গ্যাংস্টার বিধায়ক আতিক আহমেদ। পূজা ও রাজুর বিয়ের একদিন পরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। মনে করা হয়, আতিকের ভাই আশরফের সঙ্গে রাজুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই এই খুন। হত্যাকাণ্ডের একমাত্র সাক্ষী উমেশ পালও খুন হন। এক্ষেত্রেও আতিক-আশরফের নাম জড়ায়। একদিন বাদেই গ্রেপ্তার করা হয় আতিক-আশরফকে। পুলিশি হেফাজতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত তিন ব্যক্তি গুলি করে খুন করে আতিক এবং আশরফকে।
