বড়সড় কিছু ঘটতে চলেছে জম্মু ও কাশ্মীরে! সেই আশঙ্কা উসকে দিয়ে বুধবার উচ্চ সতর্কতা জারি করা হল উপত্যকায়। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থেকে আপাতত বাতিল করা হয়েছে অমরনাথ যাত্রাও (Amarnath Yatra Suspended)। গত কয়েক সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মীরে একের পর এক জঙ্গি হামলার পর কেন্দ্র শাসিত এই অঞ্চলে হাই অ্যালার্ট জারি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকার দিকে যাওয়া সব তীর্থযাত্রী ও জম্মুর দিকে আসা যানবাহনগুলি আটকে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বালতাল বেস ক্যাম্পের পুণ্যার্থীদের অমরনাথের উদ্দেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রেও জারি রয়েছে বেশকিছু সতর্কবার্তা। ওই যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সিআরপিএফের বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার উচ্চ সতর্কতা জারি করা হল উপত্যকায়। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা থেকে আপাতত বাতিল করা হয়েছে অমরনাথ যাত্রাও।
জম্মু ও কাশ্মীরে হাই অ্যালার্ট জারির নেপথ্যে প্রশাসনের তরফে জানা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট অর্থাৎ আজকের দিনেই জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা বাতিল করেছিল ভারত সরকার। এরপর জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে ভাগ করা হয়। বুধবার সেই ঘটনার সপ্তম বছর। বিশেষ এই দিনে উপত্যকা জুড়ে একাধিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি বিভিন্ন জেলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা পুনর্বহাল এবং রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে তারা। এছাড়াও তারা প্রতীকীভাবে ১৫ মিনিটের ব্ল্যাকআউটের ডাক দেওয়া হয়েছে। পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরত চেয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছে শাসকদল ন্যাশনাল কনফারেন্স। এদিনও কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে তাদের তরফে। জায়গায় জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে মাথায় রেখেই উপত্যকার নিরাপত্তা বহাল রাখতেই হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
