নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে গত ৪ দিন ধরে নির্জলা অনশনের পর অবশেষে জলগ্রহণ করলেন ঝাড়খণ্ডের ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো (Devendra Mahato)। বুধবার দেবেন্দ্রকে ভিডিও কল করে অনশন ভাঙার জন্য বুঝিয়েছিলেন শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর পরামর্শ মতোই এদিন নির্জলা অনশন ভাঙলেন দেবেন্দ্র। তবে জলপান করলেও এখনও তিনি অন্ন গ্রহণ করেননি বলে জানা যাচ্ছে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় ভূরি ভূরি অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। সরকারের কাছে মূলত ৩টি দাবি জানানো হয়। যেগুলি হল, ১. সিবিআই, ইডিকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত। ২. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা না আসা পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল রাখতে হবে। ৩. পুরো ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে যোগ্য প্রার্থীদের বিচার দিতে হবে। ঘটনার প্রতিবাদে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে প্রতিবাদ শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত চারদিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন দেবেন্দ্র। আমরণ এই অনশনে অন্ন-জল ত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি নজরে আসতেই তৎপর হন সোনম ওয়াংচুক। ফোন করেন দেবেন্দ্রকে। তাঁকে পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার এবং জলে মধু মিশিয়ে পান করার।
নির্জলা অনশন ভেঙে ভিডিও কলে সোনমের সামনেই নুন-লেবুর জল পান করেন দেবেন্দ্র। তবে জলপান করলেও এখনও অন্ন গ্রহণ করেননি তিনি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনমের ফোন পেয়ে পালটা দেবেন্দ্র তাঁকে বলেন, সোনম যদি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন তবেই অনশন ভাঙবেন তিনি। সোনম তাঁকে কথা দেন, দেবেন্দ্রর সঙ্গে দেখা করতে অবশ্যই আসবেন তিনি। এরপরই নির্জলা অনশন ভেঙে ভিডিও কলে সোনমের সামনেই নুন-লেবুর জল পান করেন দেবেন্দ্র। তবে জলপান করলেও এখনও অন্ন গ্রহণ করেননি দেবেন্দ্র। তিনি বলেন, সোনম ওয়াংচুককে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন। তাঁর পরামর্শেই জল গ্রহণ করেছেন। সোনম কথা দিয়েছেন, রাঁচির বিক্ষোভেস্থলে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন।
এদিকে জানা যাচ্ছে, বুধবার ভিডিও কলে দেবেন্দ্রর সঙ্গে কথা বলার সময় মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ টানেন সোনম। বলেন, 'অনশন মানে আত্মহত্যা নয়।' মহাত্মা গান্ধী যখন অনশন করতেন, তখন তিনি লেবু ও মধু মেশানো জল পান করতেন। সোনম আরও বলেন যে, লেবু ও মধু মেশানো জল পান করলে শরীরের শক্তি বজায় থাকে এবং এটি দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য শরীর প্রস্তুত হয়। এরপরই পড়ুয়াদের প্রতিবাদকে সমর্থন জানাতে সোনম রাঁচি আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর, দেবেন্দ্র জলপানে রাজি হন এবং নির্জলা অনশন ভাঙেন।
