জামিন পেতেই থলপতি বিজয়ের সরকারকে তোপ দাগলেন এমকে স্ট্যালিনের পুত্র উদয়নিধি স্ট্যালিন। তাঁর দাবি, তাঁর সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে যেন তিনি জঙ্গি। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''সরকারি অর্থ ব্যয় করে প্রায় ৩,০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেন আমি একজন সন্ত্রাসবাদী।''
গত সোমবার এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বান্ধবী তথা অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের পুত্র তথা বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে উদয়নিধিকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ডিএমকে নেতার অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে পুলিশ ভালো আচরণ করেনি। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ''আদালতে সরকারি আইনজীবী জানিয়েছিলেন যে আমাকে গ্রেপ্তার করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের নেই। অথচ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে তাঁরা সরকারি অর্থ ব্যয় করে প্রায় ৩,০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেন। এবং আমাকে চেন্নাই থেকে তাঞ্জাভুরে সড়কপথে নিয়ে যান— যেন আমি কোনও সন্ত্রাসবাদী।''
মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে স্ট্যালিন সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, সরকার আরও জরুরি বিষয়গুলো থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য এই বিতর্ককে কাজে লাগাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, "সরকার মনোযোগ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কৌশল অবলম্বন করছে। তারা এমন কথা আমার নামে চালিয়েছে যা আমি কখনওই বলিনি।"
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্ট্যালিন জোর দিয়ে বলেন যে, নারীদের অপমান করার কোনও উদ্দেশ্যই তাঁর ছিল না। তিনি বলেন, "আমি কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে কথা বলিনি। নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর কিছু বলার কোনও অভিপ্রায় আমার ছিল না। নারীদের ছোট করে দেখার কোনও উদ্দেশ্যই আমার ছিল না। আমার মনে এমন কোনও ইচ্ছাই নেই।"
বিতর্কের সূত্রপাত গত সোমবার। এক জনসভায় উদয়নিধি বলেন, তামিলনাড়ু কাবেরী নদীর একফোঁটা জল পাচ্ছে না, অথচ মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে উদাসীন। এই বক্তব্যের সময় জনতার মধ্য থেকে কেউ ‘তৃষা, তৃষা’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। সেই সময় ভাষণ থামিয়ে মুখে বাঁকা হাসি নিয়ে কুরুচিকর দ্বি-অর্থ বিশিষ্ট মন্তব্য করেন করেন উদয়নিধি। যা সরাসরি অভিনেত্রী তৃষাকে জড়িয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
