দেশের সাহিত্য জগতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’ ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক। মাসখানেক আগে দিল্লির রবীন্দ্র ভবনে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার জন্যে সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্দেশেই এমন কাণ্ড বলে সূত্রের খবর। স্বশাসিত অকাদেমির কাজে কেন্দ্রের এমন ‘হস্তক্ষেপ’ নিয়ে সাহিত্যিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এই আবহে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল তামিলনাড়ু সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন (MK Stalin) বাংলা-সহ সাতটি ভাষার জন্য জাতীয় স্তরে নতুন ‘সেম্মোঝি ইলাকিয়া ভিরুধু’ (ধ্রুপদী ভাষা সাহিত্য পুরস্কার) ঘোষণা করেছেন। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে প্রতিটি পুরস্কারে ৫ লক্ষ টাকা নগদ এবং স্বাধীন বিচারকদের মাধ্যমে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। যা আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যিকদের উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশব্যাপী হিন্দি আগ্রাসনের আবহে তাঁর এই পদক্ষেপ নতুন করে আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে প্রতিবাদের শক্তি দেবে বলে অনেকে মনে করছেন।
চেন্নাই আন্তর্জাতিক বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে ভারত এবং বিভিন্ন দেশের লেখক, প্রকাশক এবং সাহিত্যিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন (MK Stalin) এই ঘোষণা করেন। বাংলা, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, ওড়িয়া এবং মারাঠি– এই সাতটি ভাষার জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রতিটি ভাষার জন্য বিশিষ্ট এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ এবং আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার একটি প্রয়াস।
সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার ঘোষণা আদৌ হবে কি না, তা অনিশ্চিত থাকার বিষয়টি জোর দিয়ে স্ট্যালিন শিল্প ও সাহিত্য পুরস্কারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। স্ট্যালিনের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সাহিত্যিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং এটি আঞ্চলিক সাহিত্যের মর্যাদা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
