একশো দিনের কাজ তথা মনরেগাতে বাংলার প্রাপ্য বকেয়া টাকা দিতে নারাজ কেন্দ্রের মোদি সরকার। বাংলার বকেয়া আটকানোর জন্য অজুহাত খুঁজছে শিবরাজের দপ্তর! মনরেগা প্রকল্প থেকে মহাত্মার নাম সরিয়ে দিয়ে বিকাশ ভারত - রোজগার এবং আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ), সংক্ষেত্রে জিরামজি আইন আনার পর দেশের সমস্ত রাজ্যকে মনরেগায় বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে জানালেও বাংলার ক্ষেত্রে যে সেই নিয়ম খাটবে না। সোমবার সে কথা আবারও বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।
সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে জিরামজি আইনের পক্ষে দীর্ঘ সওয়াল করেন তিনি। সেখানেই মনরেগাতে দেশের সমস্ত রাজ্যের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে জানালেও বাংলার বকেয়া মেটানোর কী হবে জানতে চাওয়া হলে শিবরাজের সাফ জবাব, “যে হিসাব সততার সঙ্গে দেওয়া হয়েছে, তা সব মিটিয়ে দেওয়া হবে। কেউ ভুয়ো হিসাব দিলে তা কীভাবে দেব!”। এদিকে মন্ত্রক সূত্রের খবর, মনরেগাতে বাংলার বকেয়া টাকা কীভাবে আটকে রাখা যায় তার জন্য শিবরাজের মন্ত্রকের অন্দরেও প্রস্তুতি চলছে। বাংলার টাকা কেন মেটানো হচ্ছে না, তার জন্য মন্ত্রকের আধিকারিক স্তরে কারণ খোঁজার জন্য চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে এবং কী কী কারণে বাংলাকে টাকা দেওয়া হবে না, তার জবাব তৈরি হচ্ছে বলেও সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের দাবি, বাংলাকে টাকা না দেওয়ার জন্য অজুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছে বিজেপি সরকার। বকেয়া সংক্রান্ত যাবতীয় হিসেব ও সমস্ত নথিপত্র কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়ার পরও টাকা আটকে রাখার ছুঁতো খুঁজছে এই সরকার। এদিন শিবরাজ জানিয়েছেন, পরিবর্তনের জন্য সময়ের কারণে আইনটি ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে এবং ততদিন পর্যন্ত মনরেগা বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক যে তথ্য দিয়েছিল, তাতে দেখা যায়, চলতি অর্থবর্ষে অন্য সব রাজ্যের জন্য ১০০ দিনের কাজে কমবেশি অর্থ বরাদ্দ করা হলেও বাংলার বরাদ্দ শূন্য! কেন্দ্র জানিয়েছে, নতুন অর্থ বছর শুরুর আগেই আগের অর্থবর্ষের সব টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ২০২৪-২৫ পর্যন্ত সব বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে বাংলা ছাড়া। কেন্দ্র জানায়, বাংলা বাদে অন্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সব মিলিয়ে ৬৯ হাজার কোটিরও বেশি টাকা পেয়েছে।
