নির্বাচনের ঠিক আগে অসমে বিরাট ধাক্কা কংগ্রেসের। বিজেপিতে যোগ দিলেন অসমের প্রদেশ সভাপতি ভূপেন বোরা। রবিবার গুয়াহাটিতে অসম বিজেপির প্রধান দিলীপ সাইকিয়ার হাত ধরে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো দলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি ভূপেন। তাঁর কটাক্ষ, 'অসমে নির্বাচন লড়ার মতো টাকা নেই কংগ্রেসের।'
গত সপ্তাহেই দল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ভূপেন। তাঁর ইস্তফার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তরপর হন কংগ্রেস নেতারা। সিনিয়র নেতাদের তাঁর বাড়িতে ছুটে যেতে দেখা যায়। রাহুল গান্ধীও ভূপেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তবে কোনও কিছুতেই কাজ হয়নি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা ভূপেনের বাড়িতে এসে দেখা করে ঘোষণা করেন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন অসম কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। রবিবার বিজেপিতে যোগ দিয়ে ভূপেন বলেন, "কংগ্রেসের থাকাকালীনই আমার মনে হয়েছিল বিজেপি দেশের জন্য কাজ করছে। অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার পর বিজেপির বিষয়ে আরও নিশ্চিত হই আমি। যার জেরেই দেশের উন্নতির কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতেই আমার এই পদক্ষেপ।"
ভূপেনের কটাক্ষ, 'সবকিছু যদি তুষ্টিকরণের অঙ্কে চলে তবে কাজ করা যায় না। কংগ্রেস মূল লক্ষ্য হল মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার মাত্র ২৫টি আসন।'
পাশাপাশি কংগ্রেসকে তোপ দেগে ভূপেন বলেন, অসম কংগ্রেসের প্রধান এবং সাংসদ গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে রাজ্য নেতৃত্ব এখন তুষ্টিকরণে মন দিয়েছে। যদি সবকিছু তুষ্টিকরণের অঙ্কে চলে তবে কাজ করা যায় না। কংগ্রেস মূল লক্ষ্য হল মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার মাত্র ২৫টি আসন। রাজ্য কংগ্রেস এখন রকিবুল হুসেন দ্বারা প্রভাবিত। গৌরব গগৈ অসম কংগ্রেসকে রকিবুল হুসেনের কাছে সঁপে দিয়েছেন।" তাঁর আরও দাবি, "কংগ্রেসের সঙ্গে আমার যাবতীয় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ আমি দলকে বেশ কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্ন করেছি।"
এছাড়াও আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যে কংগ্রেস ফের হারতে চলে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করে ভূপেন বলেন, "এবারের ভোটে নিশ্চিতভাবে হারছে কংগ্রেস। শুধু তাই নয় নির্বাচনে লড়ার জন্য কংগ্রেসের কাছে টাকা নেই। তারা সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে।" প্রায় ৬০০ জন কংগ্রেসের টিকিটপ্রার্থী বিজেপিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক বলেও জানান ভূপেন। তাঁর পাশাপাশি, সঞ্জু বড়ুয়া এবং সর্বনারায়ণ দেউরির মতো তরুণ কংগ্রেস নেতারাও বিজেপিতে যোগদান করেন এদিন।
