ভক্তদের কাছে মহাতীর্থ কেদারনাথ-বদ্রীনাথ। চারধামের অন্যতম। এবার থেকে সেই কেদারনাথ-বদ্রীনাথ মন্দির দর্শন করতে পারবেন কেবল হিন্দু ধর্মাবলম্বীরই! অ-হিন্দুদের এই তীর্থস্থলে প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে চলেছে। বর্তমানে বিষয়টি প্রস্তাবের পর্যায় থাকলেও সূত্রের খবর, খুব শিগগির নতুন নিয়ম ঘোষণা করবে মন্দির কর্তৃপক্ষ। 'ধর্মীয় পবিত্রতা' রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উত্তরাখণ্ড কেদারনাথ বদ্রীনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি) নিয়ন্ত্রিত তীর্থস্থানের ৪৫টি মন্দিরেই অ-হিন্দু প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে চলেছে। এর মধ্যে মূল দুই মন্দিরও রয়েছে। নতুন নিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিকেটিসি সভাপতি এবং বিজেপি নেতা হেমন্ত দ্বিবেদী। তিনি জানান, মন্দির কমিটির আওতাধীন সমস্ত মন্দিরে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে। এই প্রস্তাবটি মন্দির কমিটির আগামী সাধারণ সভায় পাস হবে। এরপরেই তা নিয়মে পরিণত হবে।
কেদারনাথ বদ্রীনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি) নিয়ন্ত্রিত ৪৫টি মন্দিরেই অ-হিন্দু প্রবেশ নিষিদ্ধ হতে চলেছে।
হেমন্ত দ্বিবেদীর দাবি করেছেন, মন্দিরগুলিতে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রথা বহু পুরনো। কিন্তু আগে যখন রাজ্যে বিজেপি সরকার ছিল না, সেই সময়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সেই সময়ে নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে। এখন পুরনো প্রথাকেই ফেরত আনা হচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি সূর্যকান্ত ধাসমানা এই পদক্ষেপকে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল বলে বর্ণনা করেছেন। কারণ অ-হিন্দুরা এমনিতেই এই মন্দিরগুলিতে প্রবেশ করেন না। ফলে আলাদা করে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনহীন। ধাসমানার দাবি, রাজ্যের আসল সমস্যা থেকে মানুষের চোখ সরাতেই কেদার-বদ্রী নিয়ে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান শীতের মরশুমে বন্ধ রয়েছে কেদারনাথ-বদ্রীনাথের মন্দিরগুলি। শীত ও তুষারপাতের কারণে প্রতি বছর ছয় মাস বন্ধ থাকে তীর্থস্থান। জানা গিয়েছে, পুণ্যার্থীদের জন্য তা খুলে দেওয়া হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। এই বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে আগামী শিবরাত্রির দিন। মনে করা হচ্ছে, তার আগেই কেদারনাথ-বদ্রীনাথে অ-হিন্দু প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হবে।
