বিজেপি শাসিত রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বাঙালিদের উপর নির্যাতন, পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবরের মধ্যেই ব্যতিক্রমী ছবি মহারাষ্ট্রে। মহারাষ্ট্রে বিজেপির টিকিটে জিতে কর্পোরেটর হলেন বাঙালি শিক্ষিকা জয়া দত্ত। মীরা-ভায়ান্দর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড থেকে বিজেপির টিকিটে ৭৭০৫ ভোটে জয়ী হয়েছেন জয়া।
জন্মসূত্রে বাঙালি হলেও জয়ার বড় হওয়া মহারাষ্ট্রের ভাণ্ডুপে। ফলে মাতৃভাষা বাংলা হলেও তিনি মারাঠি ভাষাতেও সড়গড়। মাদার টেরেসা হাই স্কুল নামের স্থানীয় একটি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করেন ৪৭ বছর বয়সি জয়া। এখন ওই স্কুলেরই প্রিন্সিপাল পদে রয়েছেন। জয়ার স্বামী রথীনের আদি বাড়ি বেহালায়। তিনি চাকরি সূত্রে দীর্ঘদিন ধরেই মহারাষ্ট্রে থাকেন। সেখানে প্রায় ৩ দশক ধরে বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন রথীন। এই মুহূর্তে বিজেপির থানে মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক তিনি। এবার রথীনই স্ত্রীর টিকিটের জন্য দরবার করেন।
কিন্তু ভিনরাজ্যে যেভাবে বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে সেই আবহে বাংলাভাষীর পক্ষে প্রচারে সমস্যা হয়নি? জয়া স্বীকার করেছেন, বাঙালি হওয়ায় প্রচারের প্রথম দিকে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তবে তিনি মারাঠি জানায় দ্রুত সেই সমস্যা মিটে যায়। জয়া বলছেন, "আমি যেহেতু মারাঠিটা ঝরঝরে বলতে পারি, তাই ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে পারে আমিও তাঁদের মতোই মুম্বইবাসী।" তবে মারাঠি বললেও বাংলা ভাষা নিয়ে গর্বিত জয়া। তিনি বলছেন, "আমার গোটা জীবনটাই যেহেতু মুম্বইয়ে কেটেছে। সেকারণেই আমি সড়গড় মারাঠিতে। কিন্তু আমি বাংলা ভাষার জন্যও গর্বিত। আমার নিজের ভাষা বাংলা কেন বলব না?"
বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সোশাল মিডিয়ায় শুভেন্দু লেখেন, "মীরা-ভায়ান্দর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ২ নং ওয়ার্ড থেকে বিজেপির প্রতীকে প্রথম মহিলা বাঙালি কর্পোরেটর হিসেবে ৭৭০৫ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন জয়া রথীন দত্ত। আমি ওনাকেও গৈরিক অভিনন্দন জানাই। ভারতের বৃহত্তম অর্থনীতির রাজ্য মহারাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় এক বাঙালি বোনকে নির্বাচিত করার জন্য আমি সেখানকার অধিবাসীদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।" এবার কি জয়া বাংলায় প্রচারে আসবেন? তিনি বলছেন, "ইচ্ছা আছে। তবে আমার পারিবারিক কিছু সমস্যা আছে। স্কুলেও কিছু কাজ আছে। দেখা যাক।"
