এতদিন দেশের অন্য প্রান্তে ইন্ডিয়া জোটে ছোটখাট বিবাদ-অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হলেও তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস-ডিএমকে জোট গত কয়েক বছর মসৃণভাবেই এগিয়েছে। মাঝখানে কিছু কংগ্রেস নেতার আলটপকা মন্তব্যে সেই মসৃণতা ধাক্কা খেয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড স্পষ্ট করে দিল, কোনও জোটবদল নয়। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস লড়বে ডিএমকের সঙ্গী হিসাবেই। তাও কোনওরকম শর্ত ছাড়া।
বেশ কিছুদিন ধরেই ডিএমকেতে ক্ষোভ জমছিল রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে। ক্ষোভের মূল কারণ, অসম্মান। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস এবং ডিএমকের জোট যতই মসৃণ হোক, রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসকে সেভাবে গুরুত্ব দেয় না ডিএমকে। লোকসভায় ৩৯ আসনের মধ্যে কংগ্রেসের জন্য ৯ আসন ছাড়া হলেও বিধানসভায় সে তুলনায় অনেক কম আসন ছাড়া হয়। এমনকী, সে রাজ্যে ডিএমকে কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় থাকলেও সরকারে কংগ্রেসের কোনও অংশিদারিত্ব নেই। স্থানীয় পুরসভা, বিভিন্ন উন্নয়ন বোর্ডেও কংগ্রেস নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমন বিবিধ অভিযোগ তুলে ডিএমকের সঙ্গ ছাড়ার বার্তা দিচ্ছিলেন অনেক নেতা।
দলের অন্দরে কেউ কেউ স্বাবলম্বী হয়ে একলা চলার পক্ষে ছিলেন। কেউ আবার অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল টিভিকে'র সঙ্গে হাত মেলানোর পক্ষে ছিলেন। সদ্যই তামিলনাড়ুতে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করেছেন সুপারস্টার বিজয়। শুরুতে বেশ সাড়াও ফেলেছেন। ঘোষণা করেছেন, শরিকদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে নিতে কোনও আপত্তি নেই তাঁর। তিনি আবার ঘোষণা করেছেন, কংগ্রেস টিভিকের স্বাভাবিক মিত্র হতে পারে। টিভিকে মুখপাত্র ফেলিক্স জেরাল্ড বলেন, ‘‘রাহুল গান্ধী এবং বিজয় বন্ধু। তাঁরাই আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’’ এর মধ্যে রাহুলও আবার বিজয়ের সমর্থনে টুইট করেন। ফলে জল্পনা জোরালো হয়ে যায় যে বিজয় এবং রাহুল হাত মেলাতে পারেন।
কিন্তু শনিবার রাতে তামিলনাড়ু কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে কংগ্রেস হাই কম্যান্ড তামিলনাড়ুর নেতাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ডিএমকের সঙ্গ এখন ছাড়া যাবে না। সেটা ভুল বার্তা দেবে। ডিএমকে যদি একা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, তাহলে রাজ্যে মন্ত্রিত্বও দাবি করা যাবে না। স্ট্যালিন একা সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সেটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে জোট ভাঙার প্রশ্ন নেই। দলের সব নেতাকে এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না, সেই বার্তাও দিয়েছে কংগ্রেস হাই কম্যান্ড।
