পাত্রী হওয়া প্রয়োজন সুন্দরী! আর সেই বিজ্ঞাপনের নামে একাধিক পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা। নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েকশো পরিবারের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের নামে এহেন প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতেই হাতেহাতে দুই অভিযুক্তকে ধরল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম নাভেদ এবং ভুরা। ইতিমধ্যে দফায় দফায় ধৃত দুজনকে জেরা করছে পুলিশ। কীভাবে বিজ্ঞাপনের আড়ালে ফাঁদ পেতে এই কেলেঙ্কারি চালাতেন ধৃতরা, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, বিভিন্ন সময়ে নাম, ঠিকানা বদলে নিজেকে সরকারি পরিচয় দিয়ে পাত্রীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন ধৃতরা। বিশ্বাস-ভরসা তৈরি করে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা লুঠ করে চম্পট দিতেন ধৃতরা! ধৃত দুই প্রতারক পুরো কাজটা এমনভাবে করতেন যে, তদন্তকারীরা তা জেনে রীতিমতো অবাক।
কীভাবে প্রতারণার জাল বুনতেন প্রতারকরা? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নাভেদ এবং ভুরা দুজন নিজেদের সরকারি কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কাগজে বিজ্ঞাপন দিতেন। যেখানে বিয়ের জন্য সুন্দরী পাত্রীর আবেদন রাখা হতো। সেই মতো পাত্রীপক্ষের পরিবারের ফোন যেত ধৃতদের কাছে। শুরু হত কথাবার্তা! বিয়ের দিনক্ষণ যখন চূড়ান্ত হলে সেই সময় ধৃতরা নানা অছিলায় পাত্রীপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাইতেন বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ধৃতরা কখনও পথ দুর্ঘটনার গল্প তৈরি করত, আবার কখনও বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নিত। শুধু তাই নয়, এমনভাবে বিশ্বাস অর্জন করে সেই টাকা চাওয়া হতো, তা দিতেও পাত্রীর পরিবার এগিয়ে আসত। আর সেই টাকা অ্যাকাউন্টে আসার পর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যেতেন ধৃত দুই যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, দিল্লি-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে এভাবেই প্রতারণার জাল ছড়ায় ধৃতরা। একাধিক থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের একটি থানায় এমন একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। সেই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাইবার সেল। প্রতারকদের ধরতে ফাঁদ পাতে পুলিশ। সেই ফাঁদেই নাভেদ এবং ভুরাকে গ্রেপ্তার করে সে রাজ্যের পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে একজন ক্লাস ৫ এবং আরেকজন ক্লাস ৮ ফেল। কিন্তু এমনভাবে তাঁরা পুরো গল্প সাজাতেন তা বোঝার উপায় থাকত না কারোর।
