পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান আগামী ৫ মে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছেন। আম আদমি পার্টির সাতজন রাজ্যসভা সাংসদের বিজেপিতে যোগদানকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সংকটই এই বৈঠকের মূল ইস্যু। তাঁর দাবি, রাঘবদের 'ফিরিয়ে দিতে হবে।'
সূত্রের খবর, এই দলবদলকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে তুলে ধরতে চান মান। তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আবেদন জানাতে পারেন। পাশাপাশি, দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিও তুলতে পারেন তিনি। তবে তাতে বিশেষ কিছু সুবিধা তিনি করতে পারবেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, রাঘব চাড্ডা-সহ যে সাত সাংসদ আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, রাজ্যসভার ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে তাঁদের নামের পাশে বিজেপি সাংসদ হিসাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে একাধিক আপ বিধায়ক তাঁর সঙ্গে গেলেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে একাই উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। বাইরে অপেক্ষা করবেন বাকি নেতারা।
গত সপ্তাহেই 'আম আদমি'র ট্যাগ ত্যাগ করে বিকেলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন আম আদমি পার্টির আরও ৬ সাংসদ। আপ থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, রাঘব চাড্ডা, স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহানি। এই যোগদান যে আপের জন্য বড় ধাক্কা সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আম আদমি পার্টি ছাড়ার কারণ হিসেবে রাঘব চাড্ডা বলেছিলেন, "আমার ঘাম-রক্ত দিয়ে আপকে লালন করেছি, আমার যৌবনের ১৫টা বছর দিয়েছি। কিন্তু সেই আপ আদর্শচ্যুত হয়েছে। এই দলটা এখন আর দেশের জন্য কাজ করে না, স্রেফ ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করে। তাই আপ ছেড়ে আমি ভারতীয় জনতার কাছে যাচ্ছি।" পালটা রাঘবের বিজেপি যোগ নিয়ে আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেছেন, “যে দল তাঁকে রাজ্যসভার আসন-সহ সবরকম সুযোগ দিয়েছিল, সেই দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন তিনি।” যোগ করেন, “যে বিজেপির বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করে আসছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি বিজেপির কোলে গিয়ে বসলেন।”
