বোর্ডিং স্কুলের মধ্যেই ৫ বছরের শিশুকে নৃশংস যৌন নির্যাতনের পরে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ। ১ এপ্রিল ছেলেকে বিহারের স্কুলটির হস্টেলে দিয়ে গিয়েছিলেন মহিলা। ৬ এপ্রিল জানতে পারেন সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। স্কুলের প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাটনা থেকে ৫০ কিলোমোটার দূরের জাহানাবাদের 'গুরুকুল' নামের একটি বোর্ডিং স্কুলের ঘটনা। খুন হয়েছে আশু শর্মা। বাবা অজয় কুমার শর্মার অভিযোগ, ৬ এপ্রিল ভোর ৫টা ২০ নাগাদ তাঁকে ফোন করেন গুরুকুল হস্টেল স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং ডিরেক্টর তরুণ কুমার। তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থ আশু। তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মিনিট পনেরোর মধ্যে হাসপাতালে আসেন অজয়। সেই সময় আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিল আশঙ্কাজনক আশু। চিকিৎসকরা জানান, ধারাল অস্ত্রের আঘাতে শিশুটির গোটা শরীর ক্ষতবিক্ষত। এফআইআরে অজয় লিখেছেন, "হাসপাতালে গিয়ে দেখি, আমার সন্তানের গলা কাটা, যৌনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, পেটের বাম পাশে, গালে ও ভ্রুর নিচেও কাটা দাগ রয়েছে।" চিকিৎসকের পরামর্শ মতো আশুকে বড় হাসপাতালে স্থানান্তর করেন অজয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, ধারালো বস্তু দিয়ে বারবার আঘাত করা হয়েছে। পরিবারটি গণধর্ষণের অভিযোগ করেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, ধারালো বস্তু দিয়ে বারবার আঘাত করা হয়েছে। পরিবারটি গণধর্ষণের অভিযোগ করেছে। আশুর বড় ভাই রিশু একই স্কুলের ছাত্র। হস্টেলের ভবনের অন্য তলার ঘরে ছিল সে। রিশু পরিবারকে জানিয়েছে, ঘটনার রাতে আশুকে একসঙ্গে ঘুমানোর জন্য তার ঘরে নিয়ে গিয়েছিল কুমার। নারকীয় অত্যাচার চালিয়ে খুনের নেপথ্যে কি কুমার? এই ঘটনায় পরিবারের পাশাপাশি ক্ষোভে ফেটে পড়েছে শিশুটির গ্রামের লোকেরাও। বিচার চেয়ে পাটনা-গয়া জাতীয় সড়ক অবরোধ করে জনতা। পরিবারের দাবি, একজন নয়, যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত।
মূল অভিযুক্ত স্কুলের প্রিন্সিপাল তরুণ কমারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও একজন শিক্ষক এবং হস্টেলের দুই মহিলা কর্মীকে আটক করা হয়েছিল। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। খুন ও গণধর্ষণের মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
