৩৫ বছরে প্রথমবার। তামিলনাড়ু নির্বাচনে চার বড় দল যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তাতে একজনও ব্রাহ্মণের নাম নেই। ডিএমকে এমনিতে বরাবরই ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরোধী। তাঁদের সঙ্গী কংগ্রেসও ডিএমকের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। এআইএডিএমকেও স্থানীয় রাজনীতির স্বার্থে কোনও ব্রাহ্মণ প্রার্থী দেয়নি। এমনকী বিজেপি যারা তথাকথিত উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দল, তাঁরাও একজন ব্রাহ্মণকেও প্রার্থী করেনি।
এমনিতে তামিলনাড়ুর মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশ ব্রাহ্মণ। আর্থিকভাবেও তামিল ব্রাহ্মণরা বেশ শক্তিশালী। রাজ্যের অর্থনীতির একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁরাই। তামিলনাড়ুর বাইরেও তামিল ব্রাহ্মণদের বসতি রয়েছে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে ব্রাহ্মণরা বেশ প্রভাবশালী। তা সত্ত্বেও কোনও দল ব্রাহ্মণদের টিকিট দেয়নি। বিশেষ করে বিজেপি তথা এনডিএর প্রার্থী তালিকায় কোনও ব্রাহ্মণ নাম না থাকাটা বেশ চমকপ্রদ।
আসলে তামিল রাজনীতি তথা দ্রাবিড়ীয় রাজনীতির অন্যতম মূল ভিত্তিই হল ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরোধিতা। সেই পেরিয়ার-আন্নাদুরাইদের আমল থেকেই হিন্দু ধর্মের বর্ণবাদ, মনুবাদের বিরোধিতার সংস্কৃতি চলে আসছে তামিলভূমে। ডিএমকে সেই ধারা এখনও বহন করে চলেছে। ডিএমকে নেতারা প্রকাশ্যেই শুধু ব্রাহ্মণ্যবাদ নয়, সনাতন সংস্কৃতির বিরোধিতা করে আসছেন। সেই ধারণা থেকেই তাদের ব্রাহ্মণ প্রার্থী বয়কট করার সিদ্ধান্ত।
আর তামিল রাজনীতিতে ডিএমকের প্রভাব এতটাই যে, বাকি দলগুলিও একপ্রকার সেই পথ অনুসরণের বাধ্য হচ্ছে। যদিও এআইএডিএমকে একটা সময় ব্রাহ্মণদের প্রতি এতটা বিরূপ ছিল না। এমনকী জয়ললিতা নিজেও ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে ছিলেন। গত নির্বাচনেও তাঁর দল একটি আসনে ব্রাহ্মণ প্রার্থী দেয়। কিন্তু এখন দলে শক্তপোক্ত নেতৃত্বের অভাব থাকায় আদর্শগত জায়গা থেকেও সরছে জয়ললিতার দল। তবে প্রথাগত বড় দলগুলি কোনও ব্রাহ্মণ প্রার্থী না দিলেও বিজয়ের টিভিকে দু'টি আসনে ব্রাহ্মণ প্রার্থী দিয়েছে।
