দিল্লি বিস্ফোরণে নাম জড়িয়েছিল হরিয়ানার আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের। জেহাদের সেই আঁতুড়ঘর চমকে দিয়েছিল পুলিশকে। এবার শ্রীনগরে সন্ধান মিলল লস্করের আরেক ছায়াগোষ্ঠীর। মার্চে ধরা পড়েছিল দুই পাক জঙ্গি। তারপর থেকেই তল্লাশি চালিয়ে ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হয়েছে এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের জলছবি।
জানা যাচ্ছে, ২০১০ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করে আবদুল্লা আবু হুরেরা। এর পরে ২০১৭ সালে বারামুলায় অনুপ্রবেশ করে মহম্মদ উসমান খুবাইব। সে লাহোরের বাসিন্দা ছিল। হুরেরা গত ১৬ বছর ধরে দক্ষিণ কাশ্মীরে এবং উসমান বারামুলায় নেটওয়ার্ক তৈরি করে। যা পরবর্তী সময়ে হরিয়ানা ও রাজস্থানেও ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের সমস্ত মদত জুগিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান ও লস্কর। হুরেরা ও উসমান, দু'জনেই এ প্লাস ক্যাটাগরির জঙ্গি। বছরের পর বছর ধরে তারা সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক চালিয়ে গিয়েছে। ২০২৩ পর্যন্ত দিব্যি চলছিল। দিল্লি হয়ে নুহ ও মেওয়াতেও গিয়েছিল তারা।
শ্রীনগরে সন্ধান মিলল লস্করের আরেক ছায়াগোষ্ঠীর। মার্চে ধরা পড়েছিল দুই পাক জঙ্গি। তারপর থেকেই তল্লাশি চালিয়ে ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হয়েছে এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের জলছবি।
মনে করা হচ্ছে, আল-ফালাহ-র মতোই দেশজুড়ে নাশকতার জাল বিছানোই লক্ষ্য ছিল ওই জঙ্গিদের। কিন্তু তা ভেস্তে গেল নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায়। মাসখানেক আগে ধরা পড়া দুই জঙ্গিকে জেরা করেই একে একে অন্যত্র হানা দেয় বাহিনী। জম্মু ও কাশ্মীর, রাজস্থান ও হরিয়ানার ১৯টি অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে বাইশ জনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যজুড়ে যে মডিউল তৈরির চেষ্টা হচ্ছিল তা অনেকটাই লস্করের অন্য ছায়া গোষ্ঠীগুলির মতো করেই।
উল্লেখ্য, দিল্লি বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর নবি এই আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেই নাশকতার পর একাধিক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই নাশকতা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এবং সকলের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে জড়িয়েছিল এই আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। এবার তেমনই আরেক লস্করের ছায়াগোষ্ঠীর সন্ধান বুঝিয়ে দিল পাকিস্তান লাগাতার চেষ্টা করেই চলেছে এদেশের মাটিতে ঘৃণা ও সন্ত্রাসের বীজ পুঁততে।
