সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন যেন বিজেপির শাঁখের করাত। দেশের অন্যান্য অধিকাংশ রাজ্যে SIR নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বিরোধী শিবির। সেখানে উত্তরপ্রদেশে বিজেপিই বেশি উদ্বেগে। কারণ নাম বাদের তালিকা। স্রেফ খসড়া তালিকাতেই ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এর অধিকাংশ আবার বিজেপির দুর্গ হিসাবে পরিচিত শহরাঞ্চলে। যা গেরুয়া শিবিরের ভোট ম্যানেজারদের এতটাই চাপে ফেলেছে যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নামছেন নয়া টার্গেট নিয়ে।
হিসাব বলছে, যোগীরাজ্যে আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটার। অর্থাৎ এই সংখ্যার ভোটার বাদ যাবেনই। পরে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে ২ কোটি ১৭ লক্ষ ভোটার স্থানান্তরিত, ৪৬ লক্ষ ভোটার মৃত, ২৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ভোটার একাধিক জায়গায় নাম রেজিস্টার করে রেখেছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত যা হিসাব তাতে বিজেপির গড় হিসাবে পরিচিত এলাকাগুলিতে বেশি নাম বাদ পড়ছে। তুলনায় অনেক কম নাম কাটা পড়ছে সংখ্যালঘু এলাকায়।
খসড়া তালিকা বলছে, সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়তে পারেন লখনউয়ে (৩০ শতাংশ)। এরপর আছে গাজিয়াবাদ, কানপুর, গৌতম বুদ্ধ নগর, মেরঠ, প্রয়াগরাজ, আগ্রা। এই সবকটি জেলা বিজেপির দুর্গ হিসাবে পরিচিত। অন্যদিকে যে সব জেলায় মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি সেগুলিতে নাম বাদের পরিমাণ অনেক কম। মোরাদাবাদ, রামপুর, সাহারানপুর, মুজফফরপুর, বিজনৌরের মতো জেলায় ভোটারের নাম বাদ পড়ার সংখ্যাটা ১৫-১৮ শতাংশের মধ্যে। নিজেদের গড়ে এই বিপুল ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে চিন্তিত গেরুয়া শিবির। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজেই তালিকা প্রকাশের আগে বলেছিলেন, যাঁদের নাম বাদ পড়ছে তাঁরা ৯০-৯৫ শতাংশ বিজেপির ভোটার। সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে বিপুল ক্ষত তৈরি হতে পারে। যা ২০২৭ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূরণ করা সম্ভব নয়।
তাই এখন থেকেই ক্ষতে মলম লাগানোর চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এবার বিজেপির নয়া টার্গেট হল প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে অন্তত ২ লক্ষ করে নতুন ভোটার যোগ করা। যাতে অন্তত দেড় কোটি ভোটারের নাম যোগ করা যায়। প্রত্যেক বিধায়ক-সাংসদকে বলে দেওয়া হয়েছে অন্য সব কর্মসূচি ছেড়ে নিজেদের এলাকায় গিয়ে পড়ে থাকুন। সম্ভাব্য সব নতুন ভোটার বা অন্য এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে আসা ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। শোনা যাচ্ছে, দিন চারেক আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন যোগী। সেখানে প্রধানমন্ত্রীও এই বিপুল ভোটার বাদ যাওয়া নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেন।
