মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় (Malegaon Blast Case) অন্তিম চার অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে দিল বম্বে হাই কোর্ট। আগেই প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর ওরফে সাধ্বী প্রজ্ঞা-সহ সাত অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করেছিল বিশেষ এনআইএ আদালত। যদিও বাকি চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল। বুধবার প্রমাণের অভাবে মহারাষ্ট্রের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় সকল অভিযুক্তই নির্দোষ ঘোষণা করল আদালত।
বিচারপতি চন্দ্রশেখর এবং বিচারপতি শ্যাম চন্দকের বেঞ্চে মামলা উঠেছিল। অভিযুক্তেরা এনআইএর চার্জশিট তথা মামলা থেকে নিষ্কৃতির জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। প্রমাণের অভাবে সেই আবেদনে সাড়া দিল আদালত। বেকসুর খালাস পেলেন চার অভিযুক্ত মনোহর নারওয়ারিয়া, রাজেন্দ্র চৌধুরী, ধান সিং এবং লোকেশ শর্মা। ফলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-এর শুরু করা মামলাটির আপাতত সমাপ্তি হল। যদিও এখনও পর্যন্ত বম্বে হাই কোর্টের লিখিত বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসেনি।
২০০৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার মালেগাঁও শহরে এক বিস্ফোরণে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনায় আহত হয়েছিলেন তিনশোরও বেশি। তদন্তে জানা যায়, মালেগাঁও শহরে মসজিদ লাগোয়া কবরস্থানে একটি মোটরসাইকেলে দু’টি বোমা রাখা ছিল। তাতেই বিস্ফোরণ ঘটে। শুরুতে ঘটনার তদন্তে নামে মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাসদমন শাখা (এটিএস)। তদন্তে উঠে আসে যে ঘটনার নেপথ্যে ছিল একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। বিস্ফোরণকাণ্ডে গ্রেপ্তার হন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর এবং প্রাক্তন সেনা আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদশ্রীকান্ত পুরোহিত। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
২০১১ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র কাছে যায়। তার পর আদালতে একাধিক চার্জশিট এবং অতিরিক্ত চার্জশিট জমা পড়ে। ২০১৮ সালে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সাত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। বিচার চলার সময়ে আদালত ৩২৩ জন সাক্ষীর বয়ান খতিয়ে দেখে। চলতি বছরের এপ্রিলে বিশেষ আদালতে কয়েকশো পাতার তথ্যপ্রমাণ পেশ করে এনআইএ। ১৯ এপ্রিল রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারক। অন্য দিকে, বিতর্কিত প্রজ্ঞাকে ২০১৯ সালে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রের টিকিট দিয়েছিল বিজেপি। তিনিও জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৪ সালে অবশ্য তাঁকে আর প্রার্থী করেনি পদ্মশিবির।
