নিম্ন আদালতে স্বস্তি পেলেও আবগারি মামলায় কেজরিওয়ালদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। 'বেকসুর খালাস'-এর রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার আবগারি মামলায় দিল্লি দ্বারস্থ হচ্ছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্র মারফৎ এমনটাই দাবি করেছে পিটিআই। সিবিআই মনে করছে, নিম্ন আদালতে এই মামলার কিছু দিক হয়ত উপেক্ষা করা হয়েছে।
শুক্রবার আবগারি দুর্নীতির মামলায় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া-সহ মোট ২১ জনকে বেকসুর খালাস করেছে নিম্ন আদালত। এই রায় প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক তরজা চরম আকার নিয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এজেন্সিকে ব্যবহার করে মোদি সরকারের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে এই রায়। তবে সিবিআই মনে করছে, এই মামলায় আদালত হয় কিছু দিক পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে, নাহলে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যার জেরেই এবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে তারা।
শুক্রবার আবগারি দুর্নীতির মামলায় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া-সহ মোট ২১ জনকে বেকসুর খালাস করেছে নিম্ন আদালত। এই রায় প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক তরজা চরম আকার নিয়েছে।
২০২৫ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ইস্যু ছিল আবগারি দুর্নীতি। বিজেপির অভিযোগ ছিল, দিল্লিতে আপ যে আবগারি নীতি চালু করেছিল তা রাজধানীর কোষাগারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্তত ২ হাজার ২৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে দিল্লি সরকারের। তাতে মূল অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরা হয়েছিল কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়াকে। সব মিলিয়ে ২৩ জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করে সিবিআই। সরাসরি অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে আম আদমি পার্টিকে। যা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এই মামলায় জেলে যেতে হয় কেজরিওয়ালকে। জেল থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রিত্বও ছাড়েন তিনি। মণীশ সিসোদিয়া-সহ দিল্লির একাধিক মন্ত্রীকে জেলে যেতে হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত চলাকালীন সিবিআই কারও বিরুদ্ধেই পোক্ত প্রমাণ দিতে পারেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণও জোগাড় করা যায়নি। আর কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে মামলা সাজানো হয়েছিল স্রেফ ধারণার ভিত্তিতে। রাউজ এভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং বলেন, এই মামলার বেশিরভাগটাই সাজানো হয়েছে রাজসাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে। সেটা করা যায় না। সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক কূলদীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি।
