তিনি মালেগাঁও বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত। একটা সময় জুটেছিল 'হিন্দু সন্ত্রাসবাদী' তকমাও। সেই কর্নেল পুরোহিত (Col Shrikant Prasad Purohit) এবার সেনায় প্রমোশন পাচ্ছেন। সেনার তরফে তাঁর পদোন্নতিতে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এবার কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার পদে উন্নীত হবেন কর্নেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মুম্বই থেকে প্রায় ২৭০ কিমি দূরে মালেগাঁও কেঁপে ওঠে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে। বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন সাতজন নিরীহ মানুষ, আহত হয়েছিলেন প্রায় শতাধিক। তারপরই তদন্তকারীদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা সাধ্বী প্রজ্ঞা ও ভারতীয় সেনার কর্নেল পুরোহিত। ভারতে ‘হিন্দু সন্ত্রাসবাদ’ শাখা বিস্তার করছে এমনটাই অভিযোগ তুলেছিল তৎকালীন ইউপিএ সরকার। ২০০৮ সালে হেমন্ত কারকরের নেতৃত্বে এই মামলার তদন্ত শুরু করে মহারাষ্ট্র পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা। ওই বছরই মুম্বই হামলায় শহিদ হন তিনি। তারপর ২০১১ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণের তদন্ত ভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, ওই বিস্ফোরণের নেপথ্যে রয়েছেন কর্নেল পুরোহিত। শুধু তাই নয়, ‘অভিনব ভারত’ নামের একটি জঙ্গি সংগঠন তৈরি করে নাশকতা চালানোর অভিযোগও আনা হয় পুরোহিতের বিরুদ্ধে।
যদিও সমস্তটাই ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন অভিযুক্ত। তাঁর বক্তব্য, জঙ্গি সংগঠনগুলির উপর নজর রাখতে ও হাঁড়ির খবর বের করে আনতেই তাঁকে নিযুক্ত করেছিল সেনা। অভিনব ভারতে যোগ দিয়ে তিনি সংগঠনটির গুপ্ত খবর বের করে আনতেন। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার ৯ বছর পরও তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনে ব্যর্থ হয় এনআইএ। বাধ্য হয়ে গত বছর কর্নেল পুরোহিতকে জামিন দেয় সর্বোচ্চ আদালত। পুরোহিত অভিযোগ করেন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
ওই মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই আর্মড ফোর্সেস ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন পুরোহিত। তিনি দাবি করেন, ওই ভুয়ো মামলার জেরে তাঁর কেরিয়ারের অগ্রগতি হয়নি। যাবতীয় পদোন্নতি আটকে গিয়েছে। এরপরই ওই ট্রাইব্যুনাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে কর্নেল পুরোহিতের বাধ্যতামূলক অবসর প্রত্যাহার করতে হবে। তাঁর পদোন্নতিরও সুপারিশ করা হয়েছে ট্রাইব্যুনালের তরফে। সব ঠিক থাকলে একসময় সন্ত্রাসবাদী তকমা পাওয়া কর্নেল পুরোহিত এবার সেনার ব্রিগেডিয়ার হবেন।
