কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র প্রযুক্তি ব্যবহার করে বানানো তাঁর একটি ভুয়ো ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। তা দেখে লগ্নি করে প্রতারিতও হয়েছেন বহু মানুষ। এ কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সতর্ক করলেন ইনফোসিস কর্তা এবং রাজ্যসভার মনোনীত সাংসদ সুধা মূর্তি।
একটি ভিডিওবার্তা সুধা জানান, তাঁর যে ভুয়ো ভিডিওটি ছড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে, তাতে সাধারণ মানুষকে লগ্নি নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে কিছু লিঙ্কও সমাজমাধ্যমের পোস্টে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করে লগ্নির চেষ্টা করে প্রতারিতও হয়েছেন বহু মানুষ। তাঁরা যে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, সবই খোয়া গিয়েছে। সুধার অভিযোগ, ডিপফেক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
এক্স হ্যান্ডলে বিষয়টি নিয়ে পোস্টও করেছেন সাংসদ। তিনি লিখেছেন, "আমার ছবি এবং কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়ো ভিডিও বানিয়ে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি সকলকে সতর্ক করতে চাই। আমার অজান্তে এবং আমার অনুমতি ছাড়াই এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।" বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুধা লিখেছেন, "আপনারা দয়া করে এই ধরনের ভিডিও দেখে কোনও অর্থলগ্নির সিদ্ধান্ত নেবেন না। আমার অনুরোধ, আপনারা আগে যাচাই করুন। যদি ভুয়ো হয়, সেই ভিডিও রিপোর্ট করুন। সতর্ক থাকুন। নিরাপদে থাকুন। জয় হিন্দ।"
প্রসঙ্গত, ডিপফেক প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে সমাজের সর্ব স্তরেই। এই প্রযুক্তিতে কৃত্রিম মেধার সাহায্যে বদলে দেওয়া হচ্ছে কারও শরীর, তো কারও মুখ। এক জনের শরীরে অন্যের মুখ বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভুয়ো ভিডিয়ো। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে শালীনতার মাত্রা। এই প্রযুক্তির শিকার হয়েছেন বেশ কয়েক জন বলিউড অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করা উচিত বলে সরব হয়েছিলেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। পরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক কেন্দ্রীয় সরকার। অপব্যবহার রুখতে ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকও নির্দেশিকা জারি করেছিল। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আগেই বলেছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করে কৃত্রিম মেধা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার রোখা যাবে না। উন্নত প্রযুক্তি দিয়েও ‘ডিপফেক’ জাতীয় কুকর্ম আটকাতে হবে। শীঘ্রই এ বিষয়ে বিধি আনা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন অশ্বিনী।
