মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজেছে বেশ কয়েকদিন হল। এখনও যুদ্ধ থামার নাম নেই। এদিকে ওই অঞ্চলে আটকে রয়েছেন বহু ভারতীয়। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দাবি করলেন, পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি করছে শতাব্দীপ্রাচীন দলটি।
ভোটমুখী কেরলের এর্নাকুলমে এদিন একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মোদি। আর এরপরই সেখান থেকে বক্তব্য রাখার সময় মোদির কথায় স্পষ্টতই উষ্মার সুর। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ''পরিস্থিতি আরও খারাপ করার জন্য কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বিবৃতি দিচ্ছে। উদ্দেশ্য, যাতে আমাদের জনগণ সেই সংকটে আটকেই থাকে। এবং তাহলেই মোদিকে অপমান করে রিল বানিয়ে প্রচার শুরু করতে পারে ওরা।'' মোদির মতে, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, এমন একটা পরিস্থিতির রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে দেশের অর্থনীতির উপর সিঁদুরে মেঘ। অথচ সংসদে এই ইস্যুতে কোনও আলোচনা করতে নারাজ সরকার। বিরোধীরা আলোচনা চাইলেও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পিছু হটেছে সরকারপক্ষ। এই ইস্যুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একহাত নেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কটাক্ষের সুরে বললেন, “প্রধানমন্ত্রী সংসদ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। মিলিয়ে নেবেন উনি এর মধ্যে আর সংসদে আসছেন না।” পাশাপাশি সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, “আপনাদের কী মনে হয়, পশ্চিম এশিয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনার কী প্রয়োজন নেই? তেলের দাম বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ধাক্কা এগুলি জনগণের স্বার্থের বিষয়।'' এবার কংগ্রেসকে একহাত নিলেন মোদি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি হয়নি।
