দীর্ঘ অসন্তোষ, বিবাদের পর মাঝখানে কিছুদিন সন্ধির আভাস মিলেছিল। কিন্তু সেটা নিতান্তই সাময়িক। ফের কংগ্রেসে অসন্তুষ্ট শশী থারুর। এবারে তাঁর অভিযোগ খোদ বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে অপমান করেছেন। এমনকী নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের ডাকা জরুরি বৈঠকেও তিনি গরহাজির থাকছেন।
আসলে সদ্যই কেরল সফরে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে কেরল কংগ্রেসের সব শীর্ষ নেতাই কমবেশি গুরুত্ব পেয়েছেন। কিন্তু চারবারের সাংসদ তথা রাজ্য কংগ্রেসের জনপ্রিয় মুখ শশী থারুরকে রাহুলের কোনও কর্মসূচিতেই ডাক পাননি। তাতেই থারুর অপমানিত বোধ করছেন। শুক্রবার দিল্লিতে কংগ্রেস হাই কম্যান্ড কেরলের নির্বাচন নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডেকেছেন। তাতে থারুর আমন্ত্রণও পেয়েছেন। কিন্তু রাহুলের আগের সফরে তিনি এতটাই অপমানিত বোধ করছেন যে আজকের বৈঠকে তিনি হাজির থাকবেন না বলেই খবর।
থারুর বহুদিন ধরেই বেসুরো। দলের একাধিক বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন তিনি। অপারেশন সিঁদুরের পর বিদেশে যে প্রতিনিধিদল গিয়েছিল দলের আপত্তি সত্ত্বেও তাতে গিয়েছিলেন তিরঅনন্তপুরমের সাংসদ। আবার ইদানিং কংগ্রেসের বৈঠকেও তিনি থাকেন না। সব মিলিয়ে থারুরের সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব অনেকটাই বেড়েছে। গতমাসেও বার দুই রাহুল গান্ধীর ডাকা বৈঠকে গরহাজির ছিলেন শশী। একবার বিমানে থাকার অজুহাতে, একবার অসুস্থতার অজুহাতে। দলের বৈঠকে গরহাজির থেকে তিনি গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ শুনতে। সেবার মোদির ভাষণের ভূয়সী প্রশংসাও করেন।
তবে কেরলের স্থানীয় নির্বাচনে কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পর খানিকটা সুর বদলে নিজের দলের সঙ্গে সন্ধি করে নেন। কংগ্রেসের কর্মসূচি এবং বৈঠকগুলিতেও হাজির থাকছিলেন। কিন্তু ভোটের আগে আবার পুরনো অবস্থানে ফিরলেন শশী। তাতে ভোটের আগে কংগ্রেসের যে অস্বস্তি বাড়ল, সেটা বলাই বাহুল্য।
