ফের বেসুরো শশী থারুর। ক'দিন আগেই রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠক করে বিদ্রোহ ভুলে দলের মূলস্রোতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ফের তিনি দলের ঘোষিত অবস্থানের উলটো দিকে হেঁটে কেন্দ্রের AI সম্মেলনের প্রশংসা করলেন তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ।
এআই ইমপ্যাক্ট সামিট। দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে মোদি সরকারের স্বপ্নের কর্মসূচি। অথচ শুরুর ৩ দিনের মধ্যে দু’দিনই চূড়ান্ত অব্যবস্থা দেখেছে এই AI সম্মেলন। ‘ডিজিটাল ভারতের’ এআই সম্মেলনে কাজ করেনি ওয়াইফাই, ডিজিটাল পেমেন্ট, ইন্টারনেটের হালও তথৈবচ। এছাড়াও সর্বত্র রয়েছে অব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র দেখা গিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিতর্ক চিনের রোবটকে নিজেদের বলে দাবি করা। 'ওরিয়ন’ নামক নজরদারি রোবো কুকুর যেটা আসলে চিনের তৈরি সেটিকে নিজেদের বলে দাবি করে বসে নয়ডার গালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়।
পর পর অব্যবস্থার জেরে ক্ষমা চাইতে হয় কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীকে। সাফাই দিতে হয় ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন মন্ত্রকের সচিবকে। কংগ্রেস এই গোটা সম্মেলন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বিজেপি তথা কেন্দ্রকে। অথচ, কংগ্রেসেরই সাংসদ শশী থারুর পুরোপুরি উলটো কথা বলছেন, তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ভুল হতেই পারে। এতে অহেতুক বিতর্কের কিছু নেই। সার্বিকভাবে AI সম্মেলন বেশ প্রশংসনীয়। থারুর বলেন, "সার্বিকভাবে দেখলে AI সম্মেলনে অতিথি তালিকা বেশ চমকপ্রদ। বহু দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বনেতাদের একটা বড় অংশ এখানে এসেছেন এবং জোরালো বার্তা দিয়েছেন। সবাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুসংহত বিকাশ চাইছেন।"
মজার কথা হল, একদিন আগেই রাহুল গান্ধী AI সম্মেলনকে ধুয়ে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি দাবি করেন, “এই এআই সম্মেলনটা আসলে প্রচারে আসার ব্যর্থ চেষ্টা। ভারতের প্রতিভা ও তথ্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার বদলে এই সম্মেলনে ভারতের তথ্য বিক্রি হচ্ছে। আর চিনা পণ্যকে ভারতের বলে দাবি করা হচ্ছে।” তারপরই ঠিক উলটো স্বরে এই সম্মেলনের প্রশংসা থারুরের। তাহলে কি ফের দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন কংগ্রেস নেতা। উঠছে প্রশ্ন।
