আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত। জীবনের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে ছোট্ট সন্তানকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন মা। নিজের লাইফ জ্যাকেটের মধ্যেই জড়িয়ে নিয়েছিলেন একরত্তিকে, বাঁচার লড়াই লড়ছিলেন। কিন্তু বিধাতার ক্রোধে শেষ হয়ে গেল দু'জনের প্রাণই। জব্বলপুরে নৌকাডুবির (Jabalpur Cruise Accident) পর যখন একের পর এক দেহ উদ্ধার হচ্ছে, দেখা গেল চার বছরের ছেলেকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন নিথর মা। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী রাকেশ সিংও।
বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশে নর্মদার জলাধারে মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনাটি ঘটে। প্রমোদতরীটি গভীর জলাধারের মাঝখানে পৌঁছতেই হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়। শুরু হয় তীব্র হাওয়ার দাপট। তখনই ভারসাম্য হারিয়ে একপাশে কাত হয়ে জলে ডুবে যায় সেটি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল। শুরুতে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল কাজ করলেও পরে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে। অন্ধকার নামলেও চলে উদ্ধারকাজ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এই দুর্ঘটনায়।
উদ্ধারকাজের সময়ই চোখে পড়ে মা-ছেলের মর্মান্তিক দৃশ্য। জলের তলা থেকে উদ্ধারের পর দেখা যায়, নিজের লাইফ জ্যাকেটের মধ্যেই ৪ বছর বয়সি পুত্রকে ঢুকিয়ে নিয়েছেন মা। জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন নাড়ি ছেঁড়া ধন ছোট্ট ছেলেকে। জলে ডুবে দু'জনেরই মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচাতে মায়ের মরিয়া চেষ্টা দেখে চোখের জল বাঁধ মানেনি অনেকেরই। দু'জনের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এই দৃশ্য দেখে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-ছেলের এই দৃশ্য দেখে কেঁদে ফেলেন মন্ত্রী রাকেশ সিংও। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানান, স্বজনহারা পরিবারগুলিকে সর্বতোভাবে সাহায্য করবে সরকার। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, সেটার জন্য তদন্ত শুরু হবে। যদিও প্রমোদতরীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ছিল না, এমন অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
