চিনা মাঞ্জায় রাশ টানতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, ঘুড়িপ্রেমীদের কাছে বহুল জনপ্রিয় এই সুতো। যার জেরে আকছার ঘটছে মৃত্যু। এই পরিস্থিতিতে লাগাম টানতেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, চিনা মাঞ্জায় যদি কারও মৃত্যু হয় তবে সেটা দুর্ঘটনা নয়, খুনের মামলা হিসেবে দেখা হবে।
চিনা মাঞ্জায় উত্তরপ্রদেশে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় রাশ টানতে প্রশাসনিক বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, এখন থেকে এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হবে না, গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রয়োজনে এক্ষেত্রে খুনের মামলা রুজু করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে চালানো হবে সচেতনতামূলক প্রচার। যাতে ঘুড়ি ওড়াতে এই ধরনের বিপজ্জনক সুতোর ব্যবহার না করেন লোকজন। পাশাপাশি পুলিশ ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চিনা মাঞ্জায় নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরও কোথা থেকে, কীভাবে তা বাজারে আসছে খতিয়ে দেখে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই ধরনের মাঞ্জার বিক্রি, মজুত ও সাপ্লাই চক্রকে ধ্বংস করতে হবে।
উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও 'ভো কাট্টায়' এই চিনা মাঞ্জার দাপট ও জনপ্রিয়তা নেহাত কম নয়। ঘুড়ি প্রেমীদের কাছে এই সুতো পছন্দের হলেও সাইকেল, বাইক আরোহিদের আছে এ মৃত্যুর সামিল। বাংলা, বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো একাধিক রাজ্যে ব্যাপক চল রয়েছে এর। যার জেরে আকছার ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাইক চালিয়ে আসার সময় লখনউতে চিনা মাঞ্জায় নৃশংসভাবে মৃত্যু হয় এক যুবকের। বিপজ্জনক সুতোয় গলা কেটে যায় তাঁর। বাইক থেকে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি। শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, বাংলাতেও এই ধরনের বহু ঘটনা ঘটেছে।
