রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় দাঁড়ি টেনে এবার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সে দাবির পালটা বৃহস্পতিবার মুখ খুলল বিদেশমন্ত্রক। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হল, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা মেটানোই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, "বাড়তে থাকা বাজার ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করি আমরা। দেশের চাহিদা মেটাতে জ্বালানি সংগ্রহে এটাই আমাদের প্রধান কৌশল। ভারতের জ্বালানির উৎসের ক্ষেত্রে সরকারের তরফে একাধিকবার জানানো হয়েছে, ১.৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।" এরপরই তিনি বলেন, "ভারতের সমস্ত সিদ্ধান্ত এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও তাই হবে।'' অর্থাৎ সরাসরি রুশ তেল নিয়ে কিছু না বললেও ট্রাম্পকে বুঝিয়ে দেওয়া হল, ভারত নিজের প্রয়োজন মতো যে কোনও দেশ থেকে তেল কিনবে। সেখানে অন্য কারও জারিজুরি খাটবে না।
বিদেশমন্ত্রকের বার্তা, ১.৪ বিলিয়ন ভারতীয়ের জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারতের সমস্ত সিদ্ধান্ত এই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও তাই হবে।
বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, "ভেনেজুয়েলা জ্বালানি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের দীর্ঘদিনের অংশীদার। ২০১৯-২০ সাল পর্যন্ত আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি এবং অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছি। এরপর তা বন্ধ হলেও ২০২৩-২৪ সালে ফের ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা শুরু করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর তা বন্ধ করতে হয়েছিল। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ভারত ভেনেজুয়েলার তেল কেনার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, ভারত প্রতিদিন প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে। এমনকী ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পরেও এই আমদানি অব্যাহত থেকেছে। নয়াদিল্লি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা, যা ভারতের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। সম্প্রতি এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করছে। এরই পালটা এবার মুখ খুলল দিল্লি।
