‘হানিমুন মার্ডার ২.০’! মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করাল রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরের 'হিট-অ্যান্ড-রান'-এর ঘটনা। প্রথমে যাকে মনে হয়েছিল নিছক দুর্ঘটনা, পরে স্পষ্ট হয় নৃশংস হত্যাকাণ্ড। প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামীকে হত্যা করেছেন স্ত্রী। পুলিশের দাবি, ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে যুবককে। কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটে?
শুক্রবার সন্ধ্যার ঘটনা। তিন মাস আগে বিবাহিত আশিস ও অঞ্জু হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তখনই গাড়ি দম্পতিকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আশিসের। জ্ঞান হারান অঞ্জু। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অঞ্জু জানান, আচমকা পথচলতি একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মারে। ওই সময় তাঁর সোনার হার চুরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও পুলিশ তদন্তে নামতেই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। ফরেনসিক রিপোর্টে অসংগতি ধরা পড়ে। মৃতদেহে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি শ্বাসরোধের প্রমাণ মেলে। অন্যদিকে অঞ্জুর শরীরে প্রায় কোনও আঘাতের চিহ্নই ছিল না। এখানেই সন্দেহ ঘনীভূত হয়। ক্রমশ স্পষ্ট হয়, বিয়ের তিন মাস পরে বাপের বাড়ি যান অঞ্জু। প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর পরেই দু'জনে মিলে আশিসকে খুনের ছক কষেন।
৩০ জানুয়ারি রাতে অঞ্জু ইচ্ছাকৃতভাবে আশিসকে নির্জন রাস্তায় হাঁটতে নিয়ে যান। তখনই আচমকা সঞ্জু ও তার দুই সঙ্গী রকি ও বাদল আশিসের উপর হামলা চালান। তাঁকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। এই ঘটনাকেই গাড়ি দুর্ঘটনা বলে চালানো হয়। ছিনতাইয়ের গল্প দাঁড় করাতে অঞ্জু নিজের মোবাইল ফোন ও কানের দুল অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। এর পর জ্ঞান হারানোর ভান করে রাস্তায় পড়ে ছিলেন।
গোটা বিষয়টা স্পষ্ট হয় যখন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অঞ্জুর বয়ানে অসংগতি ধরা পড়ে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানান, দাম্পত্য কলহের কারণে হঠাৎ হত্যাকাণ্ড নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত খুন। অঞ্জু পাশাপাশি সঞ্জু ও তাঁর দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
