১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী দাঙ্গায় দিল্লির জনকপুরী ও বিকাশপুরীতে দু'টি খুনের মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমার। বৃহস্পতিবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিচারপতি দিগ বিনয় কুমার এই নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে মৌখিক নির্দেশ দেন তিনি। পূর্ণাঙ্গ রায়টি এখনও জনসমক্ষে আসেনি।
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর ১৯৮৪ সালে কার্যত শিখনিধন যজ্ঞ চলেছিল দেশে। সেই অশান্তি চলাকালীন ১ নভেম্বর সরস্বতী বিহারে যশবন্ত সিং নামের এক ব্যক্তি ও তাঁর পুত্র তরুণদীপ সিংকে খুনের ঘটনায় কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারের নাম জড়ায়। সেইসময় দিল্লির রাজনগরেরই সাংসদ ছিলেন সজ্জন কুমার। প্রাথমিক ভাবে পাঞ্জাবি বাগ থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরই এক বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হলে তাদের হাতেই তদন্তের দায়ভার দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আদালত সজ্জনের বিরুদ্ধে খুনের চার্জ গঠন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর ১৯৮৪ সালে কার্যত শিখনিধন যজ্ঞ চলেছিল দেশে।
আইনজীবীদের দাবি ছিল, ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পরই বিরাট সংখ্যক উন্মত্ত জনতা শিখদের উপরে হামলা করে। আর সেই সময়ই যশবন্তের বাড়িতে হামলা হয়। তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়। লুটপাট চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বাড়িতে। খুনের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে একটি গুরুদ্বার জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সজ্জন। যশবন্তের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সজ্জনকে যাবজ্জীবন কারাবাসের নির্দেশ দেয় দিল্লির বিশেষ আদালত। এখন জেলেই রয়েছেন তিনি।
যদিও ১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর জনকপুরী এলাকায় সোহন সিং ও তাঁর জামাই অবতার সিংয়ের খুনের ঘটনা এবং ১৯৮৪ সালের ২ নভেম্বর বিকাশপুরীতে গুরচরণ সিংকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সজ্জন কুমারকে বেকসুর খালাস দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। উল্লেখ্য, প্রাক্তন সাংসদ বর্তমানে তিহার জেলে বন্দি। ১৯৮৪ সালে পালাম কলোনিতে পাঁচজন শিখ হত্যার মামলায় ২০১৮ সালের দিল্লি হাই কোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি।
